সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সরকারি সফরের দাপ্তরিক সূচি তৈরি করে পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ে স্থাপনা পরিদর্শনের নামে স্ত্রীসহ ব্যক্তিগত ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সরকারি সফরসূচি বিশ্লেষণ করে এবং বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
গত ১৭ অক্টোবর রেলওয়ে সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করবেন। এই সফরকে ‘সরকারি সফর’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনসহ কয়েকজন। দুপুরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউজে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে তারা পাকশীর রেলওয়ে স্থাপনা এবং ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সচিবের সাথে তার স্ত্রীকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ে কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে সফরসূচি অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম, সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. শামীমুর রহমান এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের কাউকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম জানিয়েছেন, “সচিব স্যার একাই নিজের মতো করে সব ঘুরে দেখতে চেয়েছেন, তাই আমরা এই সফরে যোগ দিইনি।” একই মন্তব্য করেন সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও।
এদিকে দাপ্তরিক কাজের দোহাই দিয়ে সরকারি সফরকে পারিবারিক ভ্রমণে রূপ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি পদমর্যাদা ও সম্পদ ব্যবহার করে সরকারি সফরের নামে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ নিশ্চিত করা স্পষ্টতই অনিয়ম ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামের ভাষ্য, তিনি সম্পূর্ণ সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই রেলে পরিদর্শনে এসেছেন। সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিলেও, তার দাবী সরকারি সফরের স্ব-পরিবারে যাওয়ার সুযোগ আছে।
পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের আরও জানালেন, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে এবং ট্রেনটির ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পাকশী রেস্টহাউজে রাত্রিযাপন শেষে ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে রেল সচিবের কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং বিকেলে কুষ্টিয়া রেল স্টেশন পরিদর্শন করবেন তিনি। কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) সকালে তার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


















