পাবনার সাঁথিয়ায় সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তা বন্ধ, অবরুদ্ধ পরিবার
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ছন্দহ ক্যানালপাড়া গ্রামে সরকারি খাস জমি দখল করে এক পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে ওই পরিবারটি বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা ও চলাচলের পথ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছন্দহ ক্যানালপাড়া গ্রামের মো. মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী মোছাম্মদ শিখা খাতুন দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে প্রতিবেশী ওয়াজেদ আলী, মো. বকু, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. অজিত ও মো. রাকিবুল্লাহ মিলে ওই পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। এরপর টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। উল্টো তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। থানায় অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি, বরং অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।”
সরেজমিনে তদন্তকালে স্থানীয় সাক্ষী মো. ময়নাল সরদার, মো. আরিফ ও মো. শামছুল জানান, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই পরিবারটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়াজেদ আলী সরকারি জায়গায় বসতি স্থাপনের কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজেও সরকারি খাস জমিতেই বসবাস করি। আমার বাড়ির পাশ দিয়ে কোনোভাবেই তাদেরকে রাস্তা দেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি রাস্তা খুলে দেবেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি জমিতে বসবাসের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী পরিবারকে জিম্মি করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা অমানবিক ও বেআইনি।
প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তাটি উন্মুক্ত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।















