বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানে মকলেছুর রহমান বাবলু
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি গড়ার লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে কেন্দ্রিয় বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তন কক্ষে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে আমি ও আমার অপর দুই ভাইসহ ৯ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ায় আমরা ৪৭ জন সহযোদ্ধা নেতাকর্মী কারাগারে বন্দী থাকার কারণে ঈশ্বরদী বাসীর পাশে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের অধিক সময় থাকতে পারি নাই। কিন্তু আমার প্রিয় ঈশ্বরদী বাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা আর দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার দয়ায় গত ১১ই ফেব্রুয়ারী মহামান্য হাইকোর্টের ন্যায় বিচারের মাধ্যমে বেকসুর খালাস পেয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি।
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ফাঁসির দড়ি নিয়ে কারাগারের ছোট্ট কুঠুরিতে অন্তারীণ থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর আমি আপনাদের সবার সঙ্গে এখনও দেখা করতে পারিনি। কারণ জেল থেকে আসার পর আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইতিমধ্যে কয়েক বার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়েছে।
বিশেষ মুহূর্তে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিগত ১০ মাস পূর্বে ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ইতিহাসের নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে আওয়ামী বাকশালি শাসনের পতন হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব আর সংস্কার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ডক্টর ইউনূস এবং দেশনায়ক তারেক রহমান।
বিগত ১০ বছর আপনাদের ভোটাধিকারকে পদদলিত করে যারা ঈশ্বরদী পৌরসভার স্বঘোষিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা আমার রেখে যাওয়া ১০০ কো টি টাকার প্রকল্পগুলোই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে লুটপাটের মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌরসভাকে বসবাসের অযোগ্য করেছেন। যে কারণে আজকে ঈশ্বরদীর মাটি থেকে তারা বিতাড়িত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি জনগণের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারী আমরা যখন কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরদীর মাটিতে পদার্পণ করি তখন ঈশ্বরদীর হাজার হাজার মানুষ তাদের স্নেহ, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আমাদেরকে বরণ করে নিয়েছিলেন। সেদিন ঈশ্বরদীর মানুষের অভিব্যক্তি দেখে আমরা অভিভূত হয়েছিলাম। আমরা সেদিন সেই জনগণের চাওয়া পাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ঈশ্বরদীকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা গুলোকে সার্বজনীন করার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমি, হাবিব ভাই ও পিন্টু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করে যাবো। কিন্তু অতি সম্প্রতি অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের অনাকাঙ্কিত কর্মকাণ্ড বা আচরণ ঈশ্বরদীর মানুষকে ভাবিত করেছে, হতাশ করেছে। যা এখনই পরিসমাপ্তি জরুরী। আশা করি আমাদের ধৈর্য্য ও সহনশীল আচরণের মাধ্যমে গত ১১ ফেব্রুয়ারী তারিখে গণসংবর্ধনায় দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা পাবে।
তিনি আরো বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ইতিবাচক ও পরিবর্তনের রাজনীতি জাতির সামনে নতুনভাবে আশার সঞ্চার করেছে। তারেক রহমান মানুষের মন জয় করতে নিচ্ছেন একের পর এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্র নিয়ে ভাবনা জনগণ গ্রহণ করেছে যা ইতিবাচক। তারেক রহমান তার প্রতিটি বক্তব্যে বারংবার বলেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের মন জয় করতে হবে আর জনগণের মন জিতে নেবার ভেতর দিয়েই বিএনপিকে প্রকৃত অর্থে পরিণত হতে হবে জনবান্ধব দলে। মনে রাখতে হবে আগামীর বাংলাদেশ হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের ভিতর দিয়ে একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। যে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিমূল হিসাবে কাজ করবে বহুল কাঙ্খিত ৩১ দফা। সেই ৩১ দফার আলোকে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খলভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা আজমল হোসেন ডাবলু, ভাষা প্রামানিক, তুহিন চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ভিপি শাহিন, সিদ্দিকুর রহমান মিলন মেম্বার, রফিকুল ইসলাম নয়ন, মহিলা দলের রোকেয়া পারভিন, খাদেজা পারভিন নীপাসহ সহস্রাধিক নেতা কর্মী ।




















