ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মেহেরপুরে নার্স হত্যায় ২ জনের ফাঁসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরে সেবিকা (নার্স) নার্গিস খাতুনকে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের একাধিক সাজা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রিপতি কুমার বিশ্বাস এ আদেশ দেন।  দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ফোরকান আলির ছেলে বাশারুল ইসলাম ও জামির হোসেনের ছেলে ফজর আলি। তারা দুজনই পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের স্ত্রী নার্গিস খাতুন বামন্দি মাহী ক্লিনিকের সেবিকা হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বামন্দির আল ফালাহ ক্লিনিকে যোগ দেন। ওই দিন তিনি বাড়িতে ফিরতে দেরি হবে বলে তার মেয়ে তসলিমা খাতুনকে জানান, তিনি বামন্দির করবী ক্লিনিকের সামনে আছেন, তার বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ থাকায় তার মেয়ে তসলিমা খাতুন গাংনী থানায় একটি জিডি করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে তসলিামা একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার সেই সময়ের উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ কুমার তদন্তকালে সাহেবনগর গ্রামের ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি বাশারুলকে গ্রেপ্তার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দুদিন পর পুলিশ ইয়াকুব আলিকে এবং তারও চারদিন পর ফরজ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাশারুল ও ফজর আলিকে আটক করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি বাশারুলের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে নার্গিসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৬৪/৩৭৯/২০১ ধারায় বাশারুল ইসলাম, ফজর আলি ও ইয়াকুব হোসেনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গ্রেপ্তার তিনজন অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নার্গিস বেগমকে ধর্ষণ করা হয় বলে তারা স্বীকার করেন। ধর্ষণের ঘটনায় একই মামলায় আসামিদের নামে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯ (৩) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা করা হয়।
হত্যা মামলায় মোট ২৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

মামলা চলাকালে মৃত্যু হওয়ায় অপর আসামি ইয়াকুব হোসেনের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বাশারুল ও ফজর আলিকে দণ্ডবিধির ৩৬৪ ধারায় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী শহিদুল হক। আসামিপক্ষে ছিলেন কামরুল হাসান ও আতাউর রহমান।

নার্গিস খাতুনের মেয়ে তসলিমা খাতুন বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকর করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মেহেরপুরে নার্স হত্যায় ২ জনের ফাঁসি

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩

মেহেরপুরে সেবিকা (নার্স) নার্গিস খাতুনকে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের একাধিক সাজা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রিপতি কুমার বিশ্বাস এ আদেশ দেন।  দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ফোরকান আলির ছেলে বাশারুল ইসলাম ও জামির হোসেনের ছেলে ফজর আলি। তারা দুজনই পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের স্ত্রী নার্গিস খাতুন বামন্দি মাহী ক্লিনিকের সেবিকা হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বামন্দির আল ফালাহ ক্লিনিকে যোগ দেন। ওই দিন তিনি বাড়িতে ফিরতে দেরি হবে বলে তার মেয়ে তসলিমা খাতুনকে জানান, তিনি বামন্দির করবী ক্লিনিকের সামনে আছেন, তার বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ থাকায় তার মেয়ে তসলিমা খাতুন গাংনী থানায় একটি জিডি করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে তসলিামা একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার সেই সময়ের উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ কুমার তদন্তকালে সাহেবনগর গ্রামের ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি বাশারুলকে গ্রেপ্তার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দুদিন পর পুলিশ ইয়াকুব আলিকে এবং তারও চারদিন পর ফরজ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাশারুল ও ফজর আলিকে আটক করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি বাশারুলের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে নার্গিসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৬৪/৩৭৯/২০১ ধারায় বাশারুল ইসলাম, ফজর আলি ও ইয়াকুব হোসেনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গ্রেপ্তার তিনজন অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নার্গিস বেগমকে ধর্ষণ করা হয় বলে তারা স্বীকার করেন। ধর্ষণের ঘটনায় একই মামলায় আসামিদের নামে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯ (৩) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা করা হয়।
হত্যা মামলায় মোট ২৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

মামলা চলাকালে মৃত্যু হওয়ায় অপর আসামি ইয়াকুব হোসেনের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বাশারুল ও ফজর আলিকে দণ্ডবিধির ৩৬৪ ধারায় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী শহিদুল হক। আসামিপক্ষে ছিলেন কামরুল হাসান ও আতাউর রহমান।

নার্গিস খাতুনের মেয়ে তসলিমা খাতুন বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকর করা হোক।