ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময় পাবনায় প্রকল্পের কাজ না করে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে মব সৃষ্টির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পাবনা মেডিকেল কলেজে মানববন্ধন উপজেলাতেই মিলবে চোখের উন্নত চিকিৎসা, আসছে জাতীয় পরিকল্পনা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ এর উদ্বোধন সাতকানিয়ায় জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত খোন্দকার মাহমুদুল হাসান – জাহাঙ্গীর আলম মদনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ শুরু, স্বর্ণপদক পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ঝিকরগাছা বারবাকপুরের রকির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় ভেঙে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ কয়রাবিল ব্রিজ, ঝুঁকিতে জনসাধারণের যাতায়াত

জি এম শরিফুল ইসলাম সানু সাতক্ষীরা:
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়রাবিল ব্রিজটি দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাতানি, বাঁশদাহা ও কাথন্ডাসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রামের মানুষের কলারোয়া উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই কয়রাবিল ব্রিজ। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই ব্রিজ ব্যবহার করে চলাচল করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটি ভরা বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচলের একটি ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ায় সেই অস্থায়ী সংস্কার এখন অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা ভারী যানবাহনের চাপে যেকোনো সময় সেটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ এবং জরুরি সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। মাঠে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিজের ভাঙা অংশে প্রায়ই ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুরনো এই ব্রিজটি এলজিইডি নির্মাণ করেনি। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত নিরাপদ অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাতক্ষীরায় ভেঙে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ কয়রাবিল ব্রিজ, ঝুঁকিতে জনসাধারণের যাতায়াত

আপডেট সময় : ০৪:১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়রাবিল ব্রিজটি দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাতানি, বাঁশদাহা ও কাথন্ডাসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রামের মানুষের কলারোয়া উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই কয়রাবিল ব্রিজ। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই ব্রিজ ব্যবহার করে চলাচল করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটি ভরা বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচলের একটি ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ায় সেই অস্থায়ী সংস্কার এখন অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা ভারী যানবাহনের চাপে যেকোনো সময় সেটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ এবং জরুরি সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। মাঠে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিজের ভাঙা অংশে প্রায়ই ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুরনো এই ব্রিজটি এলজিইডি নির্মাণ করেনি। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত নিরাপদ অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না হয়।