ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস: শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মারক

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

প্রতি বছর ৩০ জুলাই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ১৮৫৫ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী বিদ্রোহ হিসেবে স্বীকৃত।

‘হুল’ শব্দের অর্থ বিদ্রোহ বা মুক্তির আহ্বান। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন বিদ্রোহের ডাক দেওয়া হলেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর দুই কিংবদন্তি নেতা সিধু মুর্মু ও কানহু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার সাঁওতাল ব্রিটিশ শাসন, জমিদারি প্রথা এবং মহাজনী শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে। এতে অসংখ্য সাঁওতাল নারী-পুরুষ প্রাণ উৎসর্গ করেন। তবুও এই আন্দোলন শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রতিবছর হুল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গীতের আয়োজন করে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে।

হুল দিবস শুধু অতীতের একটি বিদ্রোহের স্মৃতি নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমঅধিকার, মর্যাদা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। দিবসটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস: শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মারক

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

প্রতি বছর ৩০ জুলাই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ১৮৫৫ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী বিদ্রোহ হিসেবে স্বীকৃত।

‘হুল’ শব্দের অর্থ বিদ্রোহ বা মুক্তির আহ্বান। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন বিদ্রোহের ডাক দেওয়া হলেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর দুই কিংবদন্তি নেতা সিধু মুর্মু ও কানহু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার সাঁওতাল ব্রিটিশ শাসন, জমিদারি প্রথা এবং মহাজনী শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে। এতে অসংখ্য সাঁওতাল নারী-পুরুষ প্রাণ উৎসর্গ করেন। তবুও এই আন্দোলন শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রতিবছর হুল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গীতের আয়োজন করে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে।

হুল দিবস শুধু অতীতের একটি বিদ্রোহের স্মৃতি নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমঅধিকার, মর্যাদা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। দিবসটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়।