রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে দেশে ফিরলেন নাজনীন মুন্নি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় গোপনে দেশ ত্যাগ করে শেষ পর্যন্ত কোনো সুবিধা নিতে পারেননি বিতর্কিত সাংবাদিক নাজনীন মুন্নি। বিভিন্ন দেশে আশ্রয় না পাওয়ায় তিনি পুনরায় দেশে ফিরে এসেছেন।
গত ২ নভেম্বর রাতে হিজাব, বোরকা ও মাস্ক পড়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। বিমানে ওঠার পর নিজের ফেসবুক পেজে প্রশাসন ও সরকারকে ব্যঙ্গ করে একটি স্ট্যাটাসও দেন। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন-তিনি আর দেশে ফিরবেন না। তবে তখনই একটি মহল বলেছিল, রাজনৈতিক আশ্রয় না পেলে তিনি অবশ্যই ফিরে আসবেন। শেষ পর্যন্ত সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হয়েছে। প্রায় পনেরো দিন যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন নাজনীন মুন্নি।
তবে দেশে ফেরার বিষয়টি তিনি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেননি। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে-ফেরার পর তিনি আবারও গ্লোবাল টিভিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগপন্থি পুনর্বাসনের অভিযোগে তাকে চ্যানেলটির টকশো থেকে আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে ‘প্রশ্নগুলো সহজ’ টকশোটি উপস্থাপনা করছেন কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদ খান।
সূত্রের দাবি, দেশে ফিরে নাজনীন মুন্নি আবারও এই টকশোতে নিজের অবস্থান ফিরে পেতে সক্রিয় হয়েছেন এবং আবু সাঈদ খানকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সাঈদ খানের বিরুদ্ধে তার অপপ্রচার নিয়েও নানান আলোচনা চলছে।
এদিকে, গ্লোবাল টিভিতে বারবার এই বিতর্কিত সাংবাদিককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিতেও প্রশ্ন উঠেছে। মালিকপক্ষ কেন তাকে ছাড়তে পারছে না-তা নিয়ে গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে। অনেকেই দাবি করছেন, তাকে দিয়ে গোপনীয় কিছু কাজ করানো হচ্ছে কি না-এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
দেশের গণমাধ্যমে নাজনীন মুন্নি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কঠোর নজরদারির মাঝেও তিনি কীভাবে দেশ ছাড়লেন এবং আবার কীভাবে ফিরে এলেন-এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম তার বিষয়ে যে চাপ তৈরি করেছিল, তাতে তিনি টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেন। চাকরির ক্ষেত্রেও নানান অস্বস্তির অভিযোগ করেছিলেন তিনি। দেশ ত্যাগের আগে তিনি কোথায় যাচ্ছেন-তা কাউকে জানাননি।
একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য অন্য দেশে চেষ্টা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাতেও ব্যর্থ হলে শেষ বিকল্প হিসেবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সবকিছুই তিনি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে










