ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি দাবি

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

বেড়া উপজেলার খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তি না নেওয়া ও ভর্তির জন্য অবিভাবকের নিকট ৩০০০ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই ছাত্র ওবায়দুল্লাহ মুন্সি (তৃতীয় শ্রেণি) ও নাজিয়াত মুন্সি (প্রথম শ্রেণি)’র পিতা রফিকুল ইসলাম মুন্সি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে দ্বায়িত্ব প্রদান করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী অবিভাবক রফিকুল ইসলাম মুন্সি বলেন, “গত ২৯শে জানুয়ারী ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিয়ে আমার দুই ছেলেকে ভর্তি করাতে খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাই।সেদিন প্রধান শিক্ষক এক সপ্তাহ পরে আসতে বলেন।এরপর থেকে আমার ছেলেদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে দিলেও ভর্তি নেন নি। পরে জানতে পারি বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটিতে যেন না আসতে পারি তাই পরিকল্পিত ভাবে আমার বাচ্চাদের ভর্তি নেওয়া হয় নি। এরপর আমি যখন প্রধান শিক্ষকের নিকট ছাত্র ভর্তি না নেওয়ার কারন জানতে চাই তখন তিনি জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করেন।এমনকি আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করেন।
আমি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের শাস্তি দাবি করছি।”

জানা যায়, খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম নিজের মর্জি মত বিদ্যালয় পরিচালনা লক্ষ্যে নিজস্ব লোক দিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়টি রফিকুল ইসলাম মুন্সির বাড়ীর সাথে হওয়ায় ও তিনি প্রধান শিক্ষকের সমস্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে সম্মত না হওয়ার দ্বিধাদ্বন্দে রফিকুল ইসলাম মুন্সিকে পরিচালনা কমিটি থেকে বাদ দিতে তার সন্তানদের ভর্তি নেননি তিনি।এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ভর্তি ফি চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চলছে সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের শাস্তি দাবি করছেন স্থানীয়’রা।

নিজের উপর আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন,ছাত্র ভর্তিতে আমি কোন টাকা চাই নি। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী দুজন আমিনপুর বিজ্ঞান স্কুলে ভর্তি রয়েছে। তবুও তাদের ভর্তি নেওয়া হয়েছে ও উপবৃত্তি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবিষয়ে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলাম মুন্সি নামের একজন জেলা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ডিপিও স্যার চিঠি আমাকে পাঠিয়েছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে টাকা নেওয়ার কথা অবগত হয়েছি। এবিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি, তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি।তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজের মাকে অত্যাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তারিখে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ভিডিও সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বেড়া উপজেলার খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তি না নেওয়া ও ভর্তির জন্য অবিভাবকের নিকট ৩০০০ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই ছাত্র ওবায়দুল্লাহ মুন্সি (তৃতীয় শ্রেণি) ও নাজিয়াত মুন্সি (প্রথম শ্রেণি)’র পিতা রফিকুল ইসলাম মুন্সি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে দ্বায়িত্ব প্রদান করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী অবিভাবক রফিকুল ইসলাম মুন্সি বলেন, “গত ২৯শে জানুয়ারী ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিয়ে আমার দুই ছেলেকে ভর্তি করাতে খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাই।সেদিন প্রধান শিক্ষক এক সপ্তাহ পরে আসতে বলেন।এরপর থেকে আমার ছেলেদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে দিলেও ভর্তি নেন নি। পরে জানতে পারি বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটিতে যেন না আসতে পারি তাই পরিকল্পিত ভাবে আমার বাচ্চাদের ভর্তি নেওয়া হয় নি। এরপর আমি যখন প্রধান শিক্ষকের নিকট ছাত্র ভর্তি না নেওয়ার কারন জানতে চাই তখন তিনি জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করেন।এমনকি আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করেন।
আমি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের শাস্তি দাবি করছি।”

জানা যায়, খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম নিজের মর্জি মত বিদ্যালয় পরিচালনা লক্ষ্যে নিজস্ব লোক দিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়টি রফিকুল ইসলাম মুন্সির বাড়ীর সাথে হওয়ায় ও তিনি প্রধান শিক্ষকের সমস্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে সম্মত না হওয়ার দ্বিধাদ্বন্দে রফিকুল ইসলাম মুন্সিকে পরিচালনা কমিটি থেকে বাদ দিতে তার সন্তানদের ভর্তি নেননি তিনি।এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ভর্তি ফি চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চলছে সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের শাস্তি দাবি করছেন স্থানীয়’রা।

নিজের উপর আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন,ছাত্র ভর্তিতে আমি কোন টাকা চাই নি। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী দুজন আমিনপুর বিজ্ঞান স্কুলে ভর্তি রয়েছে। তবুও তাদের ভর্তি নেওয়া হয়েছে ও উপবৃত্তি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবিষয়ে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলাম মুন্সি নামের একজন জেলা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ডিপিও স্যার চিঠি আমাকে পাঠিয়েছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, খাশ আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে টাকা নেওয়ার কথা অবগত হয়েছি। এবিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি, তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি।তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজের মাকে অত্যাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তারিখে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ভিডিও সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল।