হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস: শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মারক
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
প্রতি বছর ৩০ জুলাই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ১৮৫৫ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী বিদ্রোহ হিসেবে স্বীকৃত।
‘হুল’ শব্দের অর্থ বিদ্রোহ বা মুক্তির আহ্বান। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন বিদ্রোহের ডাক দেওয়া হলেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর দুই কিংবদন্তি নেতা সিধু মুর্মু ও কানহু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার সাঁওতাল ব্রিটিশ শাসন, জমিদারি প্রথা এবং মহাজনী শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে। এতে অসংখ্য সাঁওতাল নারী-পুরুষ প্রাণ উৎসর্গ করেন। তবুও এই আন্দোলন শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রতিবছর হুল দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গীতের আয়োজন করে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে।
হুল দিবস শুধু অতীতের একটি বিদ্রোহের স্মৃতি নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমঅধিকার, মর্যাদা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। দিবসটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়।















