ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা আদায়, যুবকের কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা আদায়ের দায়ে এক যুবককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত।  পৃথক দুইটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে আদালতের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে জরিমানা করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আরও দুইজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম (২২)। তিনি রংপুরের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মহিষামুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার পর রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমত আরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মামলার বাদী সামছুল ইসলামকে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন করেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউএনও সেজে তার কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। সামছুল ইসলামকে এর কিছু দিন পর আবারও ফোন করেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি এবার জানান, তার সঙ্গে আরও একজন সাবেক কাউন্সিলরকে উল্লেখিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করতে দিতে চান।

এতে সামছুলের সন্দেহ হয় যে, তিনি ফাঁদে পড়েছেন। এরপর সরাসরি তিনি ইউএনওর কাছে যান। সেখানে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানায় সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা করেন।

পরে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানা এ মামলা তদন্ত করে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। তবে মামলা বিচার চলাকালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত অন্য দুই আসামিকে খালাস দেন এবং অভিযুক্ত রাকিবুল হাসলামকে কারাদণ্ড দেন।

অ্যাডভোকেট ইসমত আরা আরও জানান, আলাদা দুইটি ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য আরেকটি ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আর দুই ধারায় সাজা দেওয়া এ কারাদণ্ড একটির মেয়াদ শেষের পর অন্যটি কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা আদায়, যুবকের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা আদায়ের দায়ে এক যুবককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত।  পৃথক দুইটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে আদালতের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে জরিমানা করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আরও দুইজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম (২২)। তিনি রংপুরের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মহিষামুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার পর রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমত আরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মামলার বাদী সামছুল ইসলামকে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন করেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউএনও সেজে তার কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। সামছুল ইসলামকে এর কিছু দিন পর আবারও ফোন করেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি এবার জানান, তার সঙ্গে আরও একজন সাবেক কাউন্সিলরকে উল্লেখিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করতে দিতে চান।

এতে সামছুলের সন্দেহ হয় যে, তিনি ফাঁদে পড়েছেন। এরপর সরাসরি তিনি ইউএনওর কাছে যান। সেখানে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানায় সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা করেন।

পরে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানা এ মামলা তদন্ত করে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। তবে মামলা বিচার চলাকালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত অন্য দুই আসামিকে খালাস দেন এবং অভিযুক্ত রাকিবুল হাসলামকে কারাদণ্ড দেন।

অ্যাডভোকেট ইসমত আরা আরও জানান, আলাদা দুইটি ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য আরেকটি ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আর দুই ধারায় সাজা দেওয়া এ কারাদণ্ড একটির মেয়াদ শেষের পর অন্যটি কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।