ঈশ্বরদীর কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, দুর্ভোগে সেবাপ্রত্যাশীরা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
ঈশ্বরদী উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।
শামিলপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্য তরিকুল ইসলাম জানান হাসপাতালে ওষুধ নাই। এবং ডাক্তার নিয়মিত ভাবে হাসপাতালে আসেনা সপ্তাহে ৪ দিন আসে সকাল ১২টায় আবার দুপুর ১টায় চলে যান। গ্রামের মুদির দোকান দার বাবলু প্রামাণিক জানান দুই একটি ওষুধ ছাড়া হাসপাতালে কোন প্রকার ওষুধ নাই। জানতে চাইলে ডাঃসোহাগ হোসেন বলে আমাদের কাছে কোন ওষুধ নাই। কবে আসবে জানিনা।
ছলিমপুর ইউনিয়ন ভারইমারী গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন আমি দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরতেছি।ঠান্ডা – জ্বর – কার্শির ওষুধ নেব এসে দেখি হাসপাতালে তালা ঝুলছে।ডাঃ নেই হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে যান। পরে শুনতে পায় হাসপাতালে ওষুধ নাই।
খাঁরজানী স্কুলে র শিক্ষক আব্দুল রাজ্জাক মাষ্টার বলেন আগে এই হাসপাতালে সবধরনের ওষুধ পাওয়া যেত।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কোন ওষুধ পাওয়া যায় না।
জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঈশ্বরদী উপজেলায় ২৮ টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে সরকার। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা ব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ২ থেকে ৩ প্রকার ওষুধ রয়েছে, আবার কোথাও একেবারেই ওষুধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ওষুধ নিতে এসে দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন খাঁরজানী গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ কয়েক মাস ধরে এখানে এসে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সব রকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।’
মাজেদা খাতুন, হালিমা খাতুন, নারগীছ বেগম, কামালপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরআলম, খাঁরজানীর বাচ্চু,হান্নান,হাবিল,নামে আরেক সেবা প্রত্যাশী বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেটার জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিয়েছি। আজ এসে শুনি ওষুধ নেই। গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিক, কিন্তু এখন তো কোনো উপকারই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলে তো ৪-৫’শ টাকা লাগবে।’
এ বিষয়ে খাঁরজানী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার সোহাগ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেয়ার মতো ওষুধ নেই। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। আমাদের তো কিছু করার নেই।’










