ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত।

সুমন মিয়া, জলঢাকা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ডিজিটাল উপজেলার দাবিদার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ, নার্সসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দা। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রচুর সংখ্যক রোগী ভিড় করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং রোগীরা। এতে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সরকারি খরচে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বেসরকারি ক্লিনিকমুখী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষের একটি বড় অংশ চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশা করেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জলঢাকা উপজেলার এই হাসপাতালে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর এই গুরত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে চলছে তীব্র তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শূন্য পদ হচ্ছে জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ইএনটি (নাক-কান-গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট চক্ষু, মেডিকেল অফিসার (ইউনানী), প্যাথলজিস্ট।

জানা যায়, উপজেলার এই স্বাস্থ কমপ্লেক্সকে ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। মঞ্জুরিকৃত মোট পদসংখ্যা ১৯৯ জন। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১১৯ জন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৬০ জন, চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মাত্র ১৫ জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ হাসপাতালের অন্যান্য মেশিন ও সরঞ্জামও জনবল সংকটের কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল কবির বলেন, জনবল শুন্য থাকার পরেও হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করতেছি সীমিত জনবল দিয়েই এই অঞ্চলের মানুষের সেবা নিশ্চিত করার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত।

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

দেশের অন্যতম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ডিজিটাল উপজেলার দাবিদার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ, নার্সসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দা। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রচুর সংখ্যক রোগী ভিড় করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং রোগীরা। এতে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সরকারি খরচে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বেসরকারি ক্লিনিকমুখী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষের একটি বড় অংশ চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশা করেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জলঢাকা উপজেলার এই হাসপাতালে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর এই গুরত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে চলছে তীব্র তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শূন্য পদ হচ্ছে জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ইএনটি (নাক-কান-গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট চক্ষু, মেডিকেল অফিসার (ইউনানী), প্যাথলজিস্ট।

জানা যায়, উপজেলার এই স্বাস্থ কমপ্লেক্সকে ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। মঞ্জুরিকৃত মোট পদসংখ্যা ১৯৯ জন। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১১৯ জন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৬০ জন, চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মাত্র ১৫ জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ হাসপাতালের অন্যান্য মেশিন ও সরঞ্জামও জনবল সংকটের কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল কবির বলেন, জনবল শুন্য থাকার পরেও হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করতেছি সীমিত জনবল দিয়েই এই অঞ্চলের মানুষের সেবা নিশ্চিত করার।