ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান ৩ কোটি টাকার ৮টি ব্রিজের কাজে অনিয়ম, ২ বছরেও শেষ হয়নি,তদন্তের কথা বলেন জেলা প্রশাসক বর্ণাঢ্য আয়োজনে রুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭৫৬৭ নারী

বাংলার জনতা প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:২১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্ড উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন।

সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হবে তা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

“সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন; এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, “পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

“ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিটেন্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।”

সেই তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরিবারের আয় বা ভোগের মাত্রা ঠিক করে সামাজিক সহায়তার জন্য যোগ্যদের বাছাই করা হবে। সফটওয়্যারের সহায়তায় এ প্রক্রিয়ায় হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে পরিবারগুলোকে বিভক্ত করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫ টি খানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।”

এরপর সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের নারীপ্রধানকে বাছাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সম্বলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে; ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়।

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, “পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।”

এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে।

একজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলে তিনি এ সুবিধা পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নির্দলীয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং সকল নাগরিকের জন্য।

“এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব তথ্য জনগণের কাছে থাকবে। তো এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা সার্বজনীন, অর্থাৎ এখানে কোনো দলীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।” কোথাও এর ব্যত্যয় হলে মন্ত্রণালয়ে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ হলে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’ বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।”

বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে যে ‘অপচয়’ হচ্ছে তা কমানোর পক্ষে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭৫৬৭ নারী

আপডেট সময় : ১০:২১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্ড উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন।

সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হবে তা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

“সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন; এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, “পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

“ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিটেন্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।”

সেই তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরিবারের আয় বা ভোগের মাত্রা ঠিক করে সামাজিক সহায়তার জন্য যোগ্যদের বাছাই করা হবে। সফটওয়্যারের সহায়তায় এ প্রক্রিয়ায় হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে পরিবারগুলোকে বিভক্ত করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫ টি খানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।”

এরপর সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের নারীপ্রধানকে বাছাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সম্বলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে; ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়।

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, “পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।”

এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে।

একজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলে তিনি এ সুবিধা পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নির্দলীয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং সকল নাগরিকের জন্য।

“এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব তথ্য জনগণের কাছে থাকবে। তো এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা সার্বজনীন, অর্থাৎ এখানে কোনো দলীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।” কোথাও এর ব্যত্যয় হলে মন্ত্রণালয়ে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ হলে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’ বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।”

বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে যে ‘অপচয়’ হচ্ছে তা কমানোর পক্ষে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।