ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পায়রা উৎপাদনে থাকছে ৫ জুন রাত পর্যন্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
কয়লা সংকটে উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রার। তবে ৩ জুন কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার খবর শোনা গেলেও বর্তমানে যে পরিমাণ কয়লা আছে তা দিয়ে ৫ জুন রাত পর্যন্ত কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালিয়ে নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ফলে ৩ জুন থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা আরও দুইদিন পরে হচ্ছে। পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট ম্যানেজার শাহ আবদুল মওলা বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ কয়লা আছে তাতে হয়তো ৫ জুন রাত পর্যন্ত প্ল্যান্ট চালু রাখা সম্ভব হবে। কয়লা না থাকায় গত ২৫ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। আর বর্তমানে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাকি একটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বর্তমান পাওনা প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কিছুকিছু টাকা পরিশোধ করছে যা দিয়ে প্ল্যান্ট চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে ডলার সংকট থাকায় টাকাকে ডলারে কনভার্ট করতে না পারায় এলসি করা যাচ্ছে না, আর এ কারণে কয়লা আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংকট কাটিয়ে দ্রুত কয়লা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর কয়লা আসতে অন্তত ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সে কারণে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রাখতে হতে পারে। ২০২০ সালের ১৫ মে থেকে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করে এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে প্ল্যান্টটির দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করলেও সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন একটি ইউনিট অলস বসে ছিল। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রটি কয়লা সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ করতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পায়রা উৎপাদনে থাকছে ৫ জুন রাত পর্যন্ত

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩

এফএনএস
কয়লা সংকটে উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রার। তবে ৩ জুন কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার খবর শোনা গেলেও বর্তমানে যে পরিমাণ কয়লা আছে তা দিয়ে ৫ জুন রাত পর্যন্ত কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালিয়ে নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ফলে ৩ জুন থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা আরও দুইদিন পরে হচ্ছে। পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট ম্যানেজার শাহ আবদুল মওলা বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ কয়লা আছে তাতে হয়তো ৫ জুন রাত পর্যন্ত প্ল্যান্ট চালু রাখা সম্ভব হবে। কয়লা না থাকায় গত ২৫ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। আর বর্তমানে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাকি একটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বর্তমান পাওনা প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কিছুকিছু টাকা পরিশোধ করছে যা দিয়ে প্ল্যান্ট চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে ডলার সংকট থাকায় টাকাকে ডলারে কনভার্ট করতে না পারায় এলসি করা যাচ্ছে না, আর এ কারণে কয়লা আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংকট কাটিয়ে দ্রুত কয়লা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর কয়লা আসতে অন্তত ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সে কারণে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রাখতে হতে পারে। ২০২০ সালের ১৫ মে থেকে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করে এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে প্ল্যান্টটির দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করলেও সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন একটি ইউনিট অলস বসে ছিল। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রটি কয়লা সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ করতে হচ্ছে।