ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

ঈশ্বরদীতে প্রশাসনের নীরবতায় ওরশের নামে চলছে মাদক ও জুয়ার আসর

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০২৪ ৩৮২ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাবা কালাচাঁদ ফকিরের ১৩ তম ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে চলছে ওরশ। আর ওরশের নামেই সেখানে প্রকাশ্যে বসেছে মাদক ও জুয়ার আসর। দেখে যেন মনে হচ্ছে এটা এক মাদক সেবনের খোলা কারখানা। তবে ওরশের নামে আয়োজিত মেলায় মাদক ও জুয়ার ব্যবসা চললেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নিবর ভুমিকা পালন করে দেখা গেছে।

চারপাশে তাবু বিছিয়ে প্রায় দুইশতাধিক মাদকের দোকান বসিয়েছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তরা। এসব দোকানে মাদক ও মাদক সেবনের যন্ত্রও বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব ঝুপড়ি মাদকের দোকানে নানা বয়সি মানুষের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। তবে উঠতি বয়সী তরুনদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মাদকাসক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এসব দোকানগুলোতে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসব মাদক ব্যবসায়ীরা জানান, মাজার হলো মাদক সেবন ও বিক্রির সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। এখানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি করলেও কেউ কিছু বলবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে ওরশের নামে প্রকাশ্যে মাদক বেচা-কেনা ও মাদক সেবনের আসর বসে। এখানে ওরশের অনুমতি থাকলেও মাদক বেচা-কেনা কিংবা মাদক সেবনের কোন অনুমতি নেই। এসব দেখে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও ৫ দিন ব্যাপি ওরশের নামে শুরু হওয়া এ মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে। এসব দোকানপাট থেকেও মাজারের নামে মোটা অংকের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মেলায় আগত দোকানদাররা।


এ ব্যাপারে মাজার কমিটির সভাপতি ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার রয়েছে সব জায়গাতেই গাঁজা খাওয়া হয়। কালাচাঁদের মাজারেও কিছু পাগল এসেছে। আমরা তাদের গাঁজা খাওয়ার অনুমতি দিলেও বিক্রি করতে নিষেধ করেছি। এখন তারা যদি বিক্রি করে তাহলে আমরা ঠেকাবো কি করে। তবে জুয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই বলে অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, জুয়া খেলার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি এডিট করা।
এদিকে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, কালা চাঁদের ওরশ হচ্ছে এটা জানি। তবে সেখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসে তা আমার জানা নেই। আর এর অনুমোদন উপজেলা প্রশাসন থেকে নিতে হয়। আপনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য

ঈশ্বরদীতে প্রশাসনের নীরবতায় ওরশের নামে চলছে মাদক ও জুয়ার আসর

আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০২৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাবা কালাচাঁদ ফকিরের ১৩ তম ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে চলছে ওরশ। আর ওরশের নামেই সেখানে প্রকাশ্যে বসেছে মাদক ও জুয়ার আসর। দেখে যেন মনে হচ্ছে এটা এক মাদক সেবনের খোলা কারখানা। তবে ওরশের নামে আয়োজিত মেলায় মাদক ও জুয়ার ব্যবসা চললেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নিবর ভুমিকা পালন করে দেখা গেছে।

চারপাশে তাবু বিছিয়ে প্রায় দুইশতাধিক মাদকের দোকান বসিয়েছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তরা। এসব দোকানে মাদক ও মাদক সেবনের যন্ত্রও বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব ঝুপড়ি মাদকের দোকানে নানা বয়সি মানুষের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। তবে উঠতি বয়সী তরুনদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মাদকাসক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এসব দোকানগুলোতে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসব মাদক ব্যবসায়ীরা জানান, মাজার হলো মাদক সেবন ও বিক্রির সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। এখানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি করলেও কেউ কিছু বলবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে ওরশের নামে প্রকাশ্যে মাদক বেচা-কেনা ও মাদক সেবনের আসর বসে। এখানে ওরশের অনুমতি থাকলেও মাদক বেচা-কেনা কিংবা মাদক সেবনের কোন অনুমতি নেই। এসব দেখে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও ৫ দিন ব্যাপি ওরশের নামে শুরু হওয়া এ মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে। এসব দোকানপাট থেকেও মাজারের নামে মোটা অংকের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মেলায় আগত দোকানদাররা।


এ ব্যাপারে মাজার কমিটির সভাপতি ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার রয়েছে সব জায়গাতেই গাঁজা খাওয়া হয়। কালাচাঁদের মাজারেও কিছু পাগল এসেছে। আমরা তাদের গাঁজা খাওয়ার অনুমতি দিলেও বিক্রি করতে নিষেধ করেছি। এখন তারা যদি বিক্রি করে তাহলে আমরা ঠেকাবো কি করে। তবে জুয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই বলে অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, জুয়া খেলার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি এডিট করা।
এদিকে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, কালা চাঁদের ওরশ হচ্ছে এটা জানি। তবে সেখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসে তা আমার জানা নেই। আর এর অনুমোদন উপজেলা প্রশাসন থেকে নিতে হয়। আপনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।