ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান ৩ কোটি টাকার ৮টি ব্রিজের কাজে অনিয়ম, ২ বছরেও শেষ হয়নি,তদন্তের কথা বলেন জেলা প্রশাসক বর্ণাঢ্য আয়োজনে রুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা!

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

​ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

​এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

​স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নবীনগরে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট হুমকির মুখে ফসলি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তা!

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও আমতলী গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আবাদি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

কৃষিজমি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ এবং সেখানে স্থাপনা তৈরির প্রস্তুতির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, উর্বর ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি থাকলেও সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা তৈরি করা হলে ওই জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এছাড়া বালু ভরাট এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতায় পড়ে আশপাশের বহু কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

​ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছে না। কৃষিজমি এভাবে বেদখল ও ধ্বংস হতে থাকলে একসময় এলাকায় চাষাবাদের অযোগ্য জমি বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে।

​এ বিষয়ে এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।”

​স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন এই অবৈধ মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবীনগর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।