ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিককে টার্গেট

রেজাউল করিম রিফাত ক্রাইম রিপোর্টার ( টাঙ্গাইল)
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

একটি সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অপপ্রচারের নিশানায় সাংবাদিক রেজাউল করিম।

একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কলম। সত্যকে তুলে ধরা, মানুষের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের বাস্তব চিত্র সামনে আনা—এটাই তার দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তাকে অপমান, কটূক্তি আর বিদ্বেষের মুখোমুখি হতে হয়, তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সত্য প্রকাশের মূল্য কি এতটাই কঠিন।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে এমনই এক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গ্রেফতার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ মে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। সংবাদটি ছিল পুলিশের দেওয়া তথ্য ও যাচাইকৃত সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা একটি নিয়মিত সংবাদ। দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক রেজাউল করিমকে লক্ষ্য করে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্বেষমূলক পোস্ট এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, একজন সংবাদকর্মীর জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো তার সততা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কারণ একজন সাংবাদিকের পরিচয় শুধু একটি পেশা নয়, এটি তার বিশ্বাস, দায়বদ্ধতা এবং সমাজের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কিছু লিখিনি। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা। কিন্তু আজ আমাকে এমনভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, যেন আমি কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ করেছি। তার কণ্ঠে ছিল ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও।

তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক যদি সত্য তথ্য প্রকাশের কারণে সামাজিকভাবে অপদস্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই সত্য প্রকাশ করতে ভয় পাবেন। এটি শুধু আমার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্ন।

স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অপব্যবহার ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান এবং মানহানির সংস্কৃতি সমাজকে আরও বিভক্ত করছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে রেজাউল করিম বলেন, আমি কোনো ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে মাথানত করব না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের দায়িত্ব থেকে কখনো সরে দাঁড়াব না। তবে একজন নাগরিক এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পরিচালিত অপপ্রচার শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশকে দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টা।

প্রশ্ন একটাই—সত্য প্রকাশের কারণে যদি একজন সাংবাদিককে অপমানিত হতে হয়, তবে আগামী দিনে সত্য বলার সাহস কে দেখাবে।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন শুধু একজন সাংবাদিক নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিককে টার্গেট

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

একটি সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অপপ্রচারের নিশানায় সাংবাদিক রেজাউল করিম।

একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কলম। সত্যকে তুলে ধরা, মানুষের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের বাস্তব চিত্র সামনে আনা—এটাই তার দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি তাকে অপমান, কটূক্তি আর বিদ্বেষের মুখোমুখি হতে হয়, তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সত্য প্রকাশের মূল্য কি এতটাই কঠিন।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে এমনই এক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গ্রেফতার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ মে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। সংবাদটি ছিল পুলিশের দেওয়া তথ্য ও যাচাইকৃত সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা একটি নিয়মিত সংবাদ। দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক রেজাউল করিমকে লক্ষ্য করে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্বেষমূলক পোস্ট এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, একজন সংবাদকর্মীর জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো তার সততা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কারণ একজন সাংবাদিকের পরিচয় শুধু একটি পেশা নয়, এটি তার বিশ্বাস, দায়বদ্ধতা এবং সমাজের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কিছু লিখিনি। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা। কিন্তু আজ আমাকে এমনভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, যেন আমি কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ করেছি। তার কণ্ঠে ছিল ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও।

তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক যদি সত্য তথ্য প্রকাশের কারণে সামাজিকভাবে অপদস্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই সত্য প্রকাশ করতে ভয় পাবেন। এটি শুধু আমার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্ন।

স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অপব্যবহার ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান এবং মানহানির সংস্কৃতি সমাজকে আরও বিভক্ত করছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে রেজাউল করিম বলেন, আমি কোনো ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে মাথানত করব না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের দায়িত্ব থেকে কখনো সরে দাঁড়াব না। তবে একজন নাগরিক এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পরিচালিত অপপ্রচার শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশকে দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টা।

প্রশ্ন একটাই—সত্য প্রকাশের কারণে যদি একজন সাংবাদিককে অপমানিত হতে হয়, তবে আগামী দিনে সত্য বলার সাহস কে দেখাবে।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন শুধু একজন সাংবাদিক নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজ।