সাইকেলের প্যাডেলে ঘোরে রানা আলীর জীবনের চাকা
- আপডেট সময় : ০২:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন নওদাপাড়া গ্রামের বাইসাইকেলে ফেরি করে হরেক রকম প্লাস্টিকের মালামাল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. সাহেব আলী। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের মালামাল ব্যবসায়ী মোঃ সাহেব আলী(২২) নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাজশাহী বিভাগ চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিনিদিুর পুর গ্রামে জন্ম হওয়া সত্বেও তার বেড়ে ওঠা সাত রোশিয়া এলাকায়। জীবিকার তাগিদে তিনি বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আল মাওয়া তারা জামে মসজিদ এর সামনে নওদাপাড়া গ্রামে ফিরোজ এর ঘর ভাড়া করে থাকেন। ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের পুরনো সাইকেলে বোঝাই করে নেন প্লাস্টিকের বালতি, বাটি, জগ, প্লেট, জালি, চামচ, ঢাকনা, কড়াইসহ নানা ধরনের গৃহস্থালী পণ্য। তারপর একের পর এক গ্রাম পাড়ি দিতে থাকেন- যেমন
বরই চড়া, জয়নগর,সরাইকান্দি জাগন্দাত পুর ভাড়ইমারী, লক্ষিখোলা, আওতাপাড়া, সলিমপুর, পাকশী, সাহাপুর, ঈশ্বরদী, কালিকাপুর, ডিগ্রীপাড়া খারজানি, পাঠানিয়া, চাঁদপুর,দাদপুর,চড়ইমাড়ী, মুর্শিদপুর,মুলাডুলি শেখপাড়া, দাশুড়িয়া,টুলটি,অরোনখোলা,ভারইমারী, আনন্দ বাজার,ছিলিমপুর, কালিকাপুর,খোয়াল বাথান, কলেজপাড়া, হঠাৎপাড়সহ আশপাশের গ্রামগুলোতে নিয়মিত পৌঁছে দেন হরেক রকমের পণ্য।
অন্য দিকে রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাত রোশিয়া গ্রামের কামরান আলীর সন্তান মোঃ সাহেব আলী(২২) আজ এলাকার মানুষের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন স্বাবলম্বী ব্যবসায়ী হিসেবে। বাইসাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নানা প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আর এই পথটাই আজ তাকে এনে দিয়েছে আত্মমর্যাদা ও সম্মান।।
সাহেব আলী বলেন, বাবা সারা জীবন কৃষি ও রাজমিস্তির কর পরিশ্রম টাকা দিয়ে আমদের সংসার খরচ মেটাতেন।সংসার আমরা ৬ জন সদস্য। বাবার একা উপার্জন বড় বোনের লেখাপড়ার খরচ চলাতে না পাড়ায় বোন কে বিয়া দিয়েছেন।আমি ৭ শ্রেণির পর্যন্ত লেখাপড়া করে।আর বাড়িতে থাকা হলো না জীবিকার তাগিদে চলে আসি ঈশ্বরদী উপজেলা দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামে।শুরু করি নতুন জীবন।এই যেন নিজের সাথে যুদ্ধ। ০ শুন্য হাতে শুরু করি ব্যবসা।
একসময় জীবন-সংগ্রামে জর্জরিত এই মানুষটি আজ নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গ্রামবাংলার এমন সংগ্রামী মানুষগুলোই প্রমাণ করে—সুযোগ নয়, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমই একজন মানুষকে গড়ে তোলে তার প্রকৃত উচ্চতায়।
স্থানীয়দের দরজায় দরজায় গিয়ে তিনি শুধু মালামাল বিক্রিই করেন না, বরং মানুষের সঙ্গে গড়ে তোলেন আন্তরিক সম্পর্ক। তার হাসিমুখ, ভদ্র ব্যবহার ও সৎ ব্যবসায়ী মনোভাব তাকে মানুষের কাছে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
সাহেব এর মতো আর এক যোদ্ধা যার স্ত্রী আর ৩ছেলে মেয়ে নিয়ে তিন সদস্যের সংসার। ছেলে তামিমের বয়স ছয় বছর। মেয়ে তানিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। জীবিকার তাগিদে আর ছেলে-মেয়েদের মানুষ করতে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে যাযাবর প্রকৃতির জীবনযাপন করছেন মো. রানা আলী ( ৪০) বছর বয়সী এই যুবক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করেন। সেই উপার্জনের টাকায় চলে তার সংসার। গত ৬ বছর ধরে মোঃ রানা আলী সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গতকাল সোমবার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয় ইউনিয়নের মাড়মী সুলতানপুর রাস্তায় দেখা মেলে তার। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে।
আলাপকালে তিনি বলেন, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন নওদাপাড়া মোড়ে আল মাওয়া তারা জামেমসজিদ সংলগ্ন ফিরোজ এর একটি ভাড়া বাসায় তিনি থাকছেন। সেখানে থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল চালিয়ে গিয়ে প্লাস্টিকের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রি করেন। দৈনিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এতে দৈনিক ৫’শ থেকে ৭’শ টাকা লাভ হয়। মাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ৬০০ টাকা। আর খাবার খরচ চলে যায় মাসে ৬ হাজার টাকা। মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারি। মোঃ রানা আলী বাড়ি রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার বিনিদুর পুর ইউনিয়নের সাত রোশিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাগর আলীর ছেলে।
রানা আলী,(৪৫)শিমুল হোসেন (২২) বলেন, আগে নিজ এলাকায় কৃষি ও রাজমিস্তির শ্রমিকের কাজ
করতাম। এভাবে আর সংসার চালাইতে পারছিলাম না। তাই জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে হয়েছে এই পেশা। ছাড়তে হয়েছে নিজ এলাকা। গত প্রায় ৬ বছর ধরে এ পেশায় আছি। উপজেলা দাশুড়িয়া বাজার থেকে সাইকেলের সামনে-পেছনে হরেক রকমের প্লাস্টিকের মালামাল ভরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করছি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মালামাল বিক্রির করতে ঘুরে বেড়াই গ্রাম গ্রামে। বিক্রি করি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে করছি এ কাজ।
তিনি বলেন, আমার কাছে ১০ থেকে ১০০ টাকা মূল্যের পর্যন্ত প্লাস্টিকের মালামাল রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- হাড়ি, পাতিল, জগ, মগ, বালতি, ঝুড়ি, লবণ বাটি, সাবান কেইচ, গুঁড়ি চালুনি এবং শিশুদের ক্রিকেট বল, ব্যাট, বেডমিন্টনের ব্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী। প্রতিদিন সকালে বের হয়ে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এসব সামগ্রী বিক্রি করি। দামে কম, আর মানে ভালো হওয়ায় মানুষজন আমার থেকে এসব মালামাল কিনেন। দিনশেষে রাতে বাসায় ফেরা পর্যন্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো প্লাস্টিকের এসব মালামাল বিক্রি করতে পারি। যেখানে থেকে খরচবাদে পাঁচ থেকে সাতশত টাকার মতো লাভ হয়। এই লাভের টাকায় চলে সংসার।
রানা,শিমুল, সাহেব আলী বলেন আমাদের গ্রামের এক বড় ভাই মোঃ বাবু আলী দাশুড়িয়া ইউনিয়ন নওদাপাড়া গ্রামে। তারা জামেমসজিদ সংলগ্ন ফিরোজ ভাই এর একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ঢাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য এনে নিজ গ্রাম থেকে অসহায় যুবককে এনে তাদের মাধ্যমে জিনিস দিয়ে তাদেরকে ব্যবসা শুরু করেন দিনশেষে বিক্রি করে যে টাকা।
সেই লাভের টাকা দিয়ে তারা এখানে নিজ খরচ করে তাদের বাড়িতে বাবা-মার সংসারে পাঠান ফিরোজ আরো জানান অনেক যুবক বেকার থাকায় পুঁজি ছাড়াই প্লাস্টিকের পণ্য সাইকেল করে পণ্য নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে লাভের অংশটুকু যা হয় সেটা দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠান আমার কাছে ৬-৭ বছর ধরে আমার এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে অনেকেই পরিবার আজকে খুব ভালোভাবে কাটছে।


















