ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

কুড়িগ্রামে বিপৎসীমায় তিস্তার পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ১২১ বার পড়া হয়েছে
ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে তিস্তা নদীর পানি। ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৮৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে মাত্র ১ দশমিক ২১ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ২৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৯৩ মিটার নিচে রয়েছে।

পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় স্থির রয়েছে, যা বিপৎসীমা (২৯ দশমিক ৬০ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৮৫ মিটার নিচে।

নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ২৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে রয়েছে।

অন্যদিকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমার (২৩ দশমিক ২৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৯ দশমিক ০৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার (২৯ দশমিক ৩১ মিটার) থেকে মাত্র ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে রয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় বন্যার শঙ্কা আরও বেড়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম এলাকায় ৫২ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়া এলাকায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে অব্যাহত পানি বাড়ার কারণে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় তলিয়ে গেছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টার ক্ষেত। নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বাড়ছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে বর্তমানে কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি বাড়া অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে বিপৎসীমায় তিস্তার পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

আপডেট সময় : ১১:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে তিস্তা নদীর পানি। ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৮৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে মাত্র ১ দশমিক ২১ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ২৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৯৩ মিটার নিচে রয়েছে।

পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় স্থির রয়েছে, যা বিপৎসীমা (২৯ দশমিক ৬০ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৮৫ মিটার নিচে।

নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ২৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে রয়েছে।

অন্যদিকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমার (২৩ দশমিক ২৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৯ দশমিক ০৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার (২৯ দশমিক ৩১ মিটার) থেকে মাত্র ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে রয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় বন্যার শঙ্কা আরও বেড়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম এলাকায় ৫২ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়া এলাকায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে অব্যাহত পানি বাড়ার কারণে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় তলিয়ে গেছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টার ক্ষেত। নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বাড়ছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে বর্তমানে কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি বাড়া অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।