পবিত্র কুরআন অবমাননায় মুসলিম বিশ্ব উত্তাল
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুলাই ২০২৩ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
এফএনএস : সুইডেনে সরকারি মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। দাবি উঠেছে সুইডিশ পন্য বর্জনের। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও সৌদি আরব ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র জরুরি বৈঠক ডেকেছে। তুরস্ক, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, লেবানন, মরক্কো, সিরিয়া ও ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকার সুইডিশ সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইসব দেশ সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে অথবা সুইডেন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে এনেছে প্রতিবাদ হিসেবে। শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা জুমার নামাজের পর সুইডেন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। ইরাকে বিক্ষোভকারী একদল জনতা সুইডেনের দূতাবাসের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তেহরানে সুইডিশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিপ্লবী ইরানি মুসলমানরা। গত বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে দুই ব্যক্তি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পবিত্র কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদেকে এই ন্যক্কারজনক কাজ করার অনুমতি দেয় একটি সুইডিশ আদালত। কুরআন অবমাননা করার জন্য ওই ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিরা পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটিকে বেছে নেয়। ইরান ও ইরাকের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহও সুইডেন সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি শুক্রবার তেহরানে বলেছেন, বিশ্ব মুসলিম কখনও তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা সহ্য করবে না। তিনি আরো বলেছেন, বাক স্বাধীনতার অজুহাত দেখিয়ে ধর্মগ্রন্থের অবমাননার ঘটনায় পশ্চিমাদের চিন্তার দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার কথা বলে এ ধরণের কাজ করছে। আসলে তাদের এসব অপকর্ম থেকে এটা স্পষ্ট যে, তারা মানুষের স্বাধীনতার বিরোধী। তারা বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার যে শ্লোগান দিচ্ছে তা মিথ্যাচার। এদিকে ন্যাটো জোটের মহাসচিব বলেছেন, কুরআন পোড়ানোর ঘটনা বেআইনি কোনো কাজ নয়। তিনি একে বাক-স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে বোঝাতে চেয়েছেন। অথচ ইউরোপ ও পাশ্চাত্যে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ও বিশেষ করে কথিত হলোকাস্টের অতিরঞ্জিত ঘটনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ আইনত সহ্য করা হয় না! দুঃখজনক বিষয় হল বাক-স্বাধীনতার নামে কেবল পবিত্র কুরআন ও ইসলামের মহানবীকেই (সা) টার্গেট করা হচ্ছে! যদি মুসলিম কোনো দেশে খ্রিস্ট ধর্ম বা অন্য কোনো ধর্মের অবমাননা করা হত তাহলে পাশ্চাত্য ঠিকই একে বর্বরোচিত কাজ বলে নিন্দা জানাত। রাশিয়ার সংসদ দ্যুমা সুইডিশ সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, রাশিয়ায় পবিত্র কুরআন অবমাননা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ইরাকের শীর্ষস্থানীয় আলেম আয়াতুল্লাহ সিস্তানি জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনি গুতেরেসের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, বাক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এমন লজ্জাজনক আচরণের অনুমতি দিতে পারে না, যা বিশ্বের দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমানের পবিত্রতার উপর একটি প্রকাশ্য আক্রমণ এবং যা চরমপন্থী চিন্তাভাবনা ও ভুল আচরণ বিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান আহমাদ আততাইয়্যেব সুইডিশ পন্য বর্জনের পদক্ষেপ নিতে মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠক ডাকল রিয়াদ : সুইডেনে পবিত্র কুরআন অবমাননার ব্যাপারে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ খবর জানিয়ে বলেছে, সৌদি সরকার এবং ওআইসির ইসলামিক সামিট প্রেসিডেন্টের আহ্বানে আগামী সপ্তাহে এই সংস্থার এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। এসপিএ আরো জানিয়েছে, সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দায় ওআইসির সদরদপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সুইডেনে পবিত্র কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান ঘোষণা করা হবে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি। এর আগে সুইডেনে পবিত্র কুরআন অবমাননার ব্যাপারে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানায় ইরান। গত শুক্রবার ওআইসির মহাসচিব হুসেইন ব্রাহিম তাহাকে টেলিফোন করে এই আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান। গত বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে দুই ব্যক্তি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পবিত্র কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।তাদেকে এই ন্যক্কারজনক কাজ করার অনুমতি দেয় একটি সুইডিশ আদালত। কুরআন অবমাননা করার জন্য ওই ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিরা পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটিকে বেছে নেয়।
কুরআন বুকে নিয়ে পুতিনের প্রতিবাদ : পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো রাশিয়াতেও গত বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। আর ঈদের দিনই রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দেশটির একটি মসজিদের সামনে পবিত্র কুরআন বুকে নিয়ে বললেন, ‘এর অবমাননা অপরাধ’। মুসলমানদের পবিত্র এই গ্রন্থের কপি পোড়ানোর অনুমতি দিয়ে সুইডেন যখন গোটা মুসলিম বিশ্বের নিন্দার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে, ঠিক তখন মুসলিমদের পাশে দাঁড়ালেন রুশ নেতা। প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে খোঁচা দিয়ে বলেন, অনেক দেশে না হলেও রাশিয়ায় কুরআন অবমাননা গুরুতর অপরাধ। এদিন মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাকে একটি কুরআন শরিফ উপহার দেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন রুশ ফেডারেশনের স্বায়ত্তশাসিত দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের ডারবেন্ট এলাকার ঐতিহাসিক জুমা মসজিদ পরিদর্শন করেন পুতিন। সেখানে স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্টকে কুরআনের একটি কপি উপহার দেন মুসলিম প্রতিনিধিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডারবেন্ট মিউজিয়াম প্রিজার্ভের পরিচালক ভেলি ফাতালিয়েভ তাসকে বলেছেন, আমরা প্রেসিডেন্টকে পবিত্র মক্কা থেকে আনা একটি কুরআন উপহার দিয়েছি। মুসলিম প্রতিনিধিদের দেওয়া এই উপহার সানন্দে গ্রহণ করেন পুতিন। কুরআন হাতে নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি মুসলিমদের কাছে একটি পবিত্র গ্রন্থ, যা অন্যান্যের কাছেও একই রকম বিবেচিত হওয়া উচিত। আমরা সবসময় এই নিয়মে আবদ্ধ। রুশ নেতা বলেন, আমরা জানি, কিছু দেশ এটির সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করে। তারা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করে না। আর তারা এও বলে, এটি (কুরআন অবমাননা) কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি আইন এবং সংবিধান উভয়দিক থেকেই অপরাধ। অবশ্য কুরআন সম্পর্কে পুতিনের ইতিবাচক ধারণার বহিঃপ্রকাশ এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের তরজমা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে রুশ প্রেসিডেন্টকে। ২০২০ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুতিন। ওই সময় পবিত্র কুরআনের সূরা আঁশ শুরার ২৩ নম্বর আয়াত এবং সূরা আন নাহলের ১২৮ নম্বর আয়াতের রুশ ভাষায় তরজমা উদ্ধৃত করে সৎকর্ম, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব এবং এর পুরস্কার সম্পর্কে কথা বলেছিলেন পুতিন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে সৌদি নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোসহ সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট কুরআন থেকে সুরা আল ইমরানের একটি আয়াত (১০৩) উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন সে কথা স্মরণ রেখ। তোমরা ছিলে পরস্পরের শক্র। তিনি তোমাদের হৃদয়গুলো জুড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহ ও মেহেরবানিতে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেছ। এ ছাড়াও এখন থেকে আট বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ায় আবিষ্কৃত প্রায় ১৫০০ বছর আগে হস্তলিখিত পবিত্র কুরআনের একটি কপি নিয়ে তা দেখাতে সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ির সঙ্গে তেহরানে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পুতিন ইউরোপে মহানবীর (সা) প্রতি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশেরও নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন।
ওআইসির জরুরি বৈঠক আহ্বান : সুইডেনে পবিত্র কুরআন অবমাননার ব্যাপারে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। গত শুক্রবার ওআইসির মহাসচিব হুসেইন ব্রাহিমকে টেলিফোন করে এই আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান। ফোনালাপে দুই কূটনীতিক সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে পবিত্র কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানান। বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বসা উচিত বলে আমির-আব্দুল্লাহিয়ান মন্তব্য করেন। গত বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে দুই ব্যক্তি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পবিত্র কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।তাদেকে এই ন্যক্কারজনক কাজ করার অনুমতি দেয় একটি সুইডিশ আদালত। কুরআন অবমাননা করার জন্য ওই ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিরা পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটিকে বেছে নেয়। বহু মুসলিম ও আরব দেশ সুইডেনে কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি শুক্রবার তেহরানে বলেছেন, বিশ্ব মুসলিম কখনও তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা সহ্য করবে না।তিনি আরো বলেছেন, বাক স্বাধীনতার অজুহাত দেখিয়ে ধর্মগ্রন্থের অবমাননার ঘটনায় পশ্চিমাদের চিন্তার দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছে।


















