পাবনায় মুকুলে ভরে গেছে লিচু গাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০২:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২০২ বার পড়া হয়েছে
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮০’র দশক থেকে বানিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়ে থাকে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু।
পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে মোট লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন অত্রাঞ্চলের চাষীরা।
লিচু চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যে গাছে মুকুল আসে না সে গাছ গুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। আর যে গাছে মুকুল আসে সে গাছে মুকুলে ছেয়ে যায়।
জানা যায়, ঈশ্বরদীতে মূলত ৩ জাতের লিচুর চাষ হয় সবচেয়ে বেশী। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।
উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তার পুর, কদিম পাড়া, মানিক নগর, ছিলিমপুর এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসেনি এমন গাছের সংখ্যা সামান্য। যা শতকরা ২০/ থেকে ২৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন লিচু চাষীরা।
নওদাপাড়া এলাকার লিচু চাষী ইয়াসিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার ১৩০-১৪৫টি লিচুর গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।
মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন বলেন, গেল বছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।
কোলাকান্দি জয়নগরের জাহিদ হাসান বলেন,প্রতিবছর ৭/৮ লক্ষ টাকার লিচু গাছ বিক্রি করে থাকি।এবছর যেভাবে মুকুল এসেছে আশা করছি অনেক বেশি টাকা বিক্রি করতে পারবো।
জগন্নাথপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এবছর পাবনায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিছু উৎপাদিত হয়েছে।আলহামদুলিল্লা গত বছরের তুলনায় মুকুল অনেক বেশি এসেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




















