ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

‘বর্ণবাদের জন্য মার্কিন সেনার প্রবেশ উত্তর কোরিয়ায়’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
উত্তর কোরিয়ায় এক মার্কিন সেনা বর্নবাদের কারণে পালিয়ে প্রবেশ করেছেন। তিনি এমন পদক্ষেপ কেন নিলেন তা নিয়ে বেশ অনেক পশ্ন উঠেছে। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। এদিকে উত্তর কোরিয়া এখন বলছে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে বর্ণবাদের কারণেই ওই সেনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। খবর বিবিসির। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে ‘অমানবিক আচরণ ও জাতিগত বৈষম্যের’ কারণে গত মাসে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন ট্র্যাভিস কিং নামের ওই সেনা। একটি ট্যুরে অংশ নেওয়া ২৩ বছর বয়সী ওই সেনা সদস্য গত ১৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ার প্রবেশ করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন সেনা অবৈধভাবে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন এবং তিনি দেশটিতে আশ্রয় চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন বলছে, তারা এর সত্য/মিথ্যা এখনো যাচাই করতে পারেনি। তাছাড়া ওই মার্কিন সেনা উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের পর তার বিষয়ে আর কিছুই জানা যায়নি। তাই তার ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ট্র্যাভিস কিংয়ের মুক্তির বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মার্কিন সেনাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ওই সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তিনি কী ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। গত ১৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একটি গাইড ট্যুরে থাকার সময় সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেন ওই মার্কিন সেনা। তবে জাতিসংঘ কমান্ড বলছে যে, তারা এই মুহুর্তে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারছে না। তাছাড়া ওই সেনাকে দেশে আনার ব্যপারে তারা হস্তক্ষেপ করতে চায় না বলেও জানানো হয়। ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) পরিচালনা করে জাতিসংঘের কমান্ড। দুই কোরিয়ার যৌথ নিরাপত্তা এলাকায় পিয়ংইয়ংয়ের সেনাবাহিনীর কাছে সরাসরি ফোন লাইন ব্যবহার করে ট্র্যাভিস কিং সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়। এরপরেই পিয়ংইয়ং নিনিশ্চিত করেছে যে, ওই মার্কিন সেনা তাদের হেফাজতে রয়েছে। এর আগে কোরিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে, ২৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি একজন প্রাইভেট সেকেন্ড ক্লাস পদমর্যাদার মার্কিন সেনা সদস্য। ট্র্যাভিস কিং সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কারাগারে আটক ছিলেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। এজন্য তাকে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা ঘাঁটি ক্যাম্প হামফ্রেস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার বিমানে ওঠেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন বিমানবন্দরের কাস্টমস থেকেই হঠাৎ গায়েব হয়ে যান এই সেনা সদস্য। তিনি কোনোভাবে টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট সিকিউরিটি এরিয়ায় (জেএসএ) সীমান্ত সফরে যোগ দেন। ওই এলাকাটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওই সফরের সময়ই সীমান্ত অতিক্রম করেন তিনি। এরপর থেকে তার সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি। উত্তর কোরিয়ার কারাগারে সাধারণত মার্কিন বন্দীদের সাথে নৃশংস আচরণ করা হয়। ২০১৮ সালে উত্তর কোরিয়া এক মার্কিন কলেজ ছাত্রকে মুক্তি দেয়। তিনি একটি হোটেল থেকে ব্যানার চুরির জন্য বন্দী হয়েছিলেন। তিনি কোমায় থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং পরে মারা যান। ১৯৯৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েক বার মার্কিন নাগরিকদের আটক করেছে। তাদের মধ্যে পর্যটক, বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিক ছিলেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মার্কিন সরকার তাদের নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল। সুত্র : টিটিএন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘বর্ণবাদের জন্য মার্কিন সেনার প্রবেশ উত্তর কোরিয়ায়’

আপডেট সময় : ১২:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩

এফএনএস
উত্তর কোরিয়ায় এক মার্কিন সেনা বর্নবাদের কারণে পালিয়ে প্রবেশ করেছেন। তিনি এমন পদক্ষেপ কেন নিলেন তা নিয়ে বেশ অনেক পশ্ন উঠেছে। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। এদিকে উত্তর কোরিয়া এখন বলছে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে বর্ণবাদের কারণেই ওই সেনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। খবর বিবিসির। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে ‘অমানবিক আচরণ ও জাতিগত বৈষম্যের’ কারণে গত মাসে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন ট্র্যাভিস কিং নামের ওই সেনা। একটি ট্যুরে অংশ নেওয়া ২৩ বছর বয়সী ওই সেনা সদস্য গত ১৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ার প্রবেশ করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন সেনা অবৈধভাবে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন এবং তিনি দেশটিতে আশ্রয় চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন বলছে, তারা এর সত্য/মিথ্যা এখনো যাচাই করতে পারেনি। তাছাড়া ওই মার্কিন সেনা উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের পর তার বিষয়ে আর কিছুই জানা যায়নি। তাই তার ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ট্র্যাভিস কিংয়ের মুক্তির বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মার্কিন সেনাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ওই সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তিনি কী ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। গত ১৮ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একটি গাইড ট্যুরে থাকার সময় সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেন ওই মার্কিন সেনা। তবে জাতিসংঘ কমান্ড বলছে যে, তারা এই মুহুর্তে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারছে না। তাছাড়া ওই সেনাকে দেশে আনার ব্যপারে তারা হস্তক্ষেপ করতে চায় না বলেও জানানো হয়। ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) পরিচালনা করে জাতিসংঘের কমান্ড। দুই কোরিয়ার যৌথ নিরাপত্তা এলাকায় পিয়ংইয়ংয়ের সেনাবাহিনীর কাছে সরাসরি ফোন লাইন ব্যবহার করে ট্র্যাভিস কিং সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়। এরপরেই পিয়ংইয়ং নিনিশ্চিত করেছে যে, ওই মার্কিন সেনা তাদের হেফাজতে রয়েছে। এর আগে কোরিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে, ২৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি একজন প্রাইভেট সেকেন্ড ক্লাস পদমর্যাদার মার্কিন সেনা সদস্য। ট্র্যাভিস কিং সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কারাগারে আটক ছিলেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। এজন্য তাকে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা ঘাঁটি ক্যাম্প হামফ্রেস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার বিমানে ওঠেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন বিমানবন্দরের কাস্টমস থেকেই হঠাৎ গায়েব হয়ে যান এই সেনা সদস্য। তিনি কোনোভাবে টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট সিকিউরিটি এরিয়ায় (জেএসএ) সীমান্ত সফরে যোগ দেন। ওই এলাকাটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওই সফরের সময়ই সীমান্ত অতিক্রম করেন তিনি। এরপর থেকে তার সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি। উত্তর কোরিয়ার কারাগারে সাধারণত মার্কিন বন্দীদের সাথে নৃশংস আচরণ করা হয়। ২০১৮ সালে উত্তর কোরিয়া এক মার্কিন কলেজ ছাত্রকে মুক্তি দেয়। তিনি একটি হোটেল থেকে ব্যানার চুরির জন্য বন্দী হয়েছিলেন। তিনি কোমায় থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং পরে মারা যান। ১৯৯৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েক বার মার্কিন নাগরিকদের আটক করেছে। তাদের মধ্যে পর্যটক, বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিক ছিলেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মার্কিন সরকার তাদের নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল। সুত্র : টিটিএন