ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান ৩ কোটি টাকার ৮টি ব্রিজের কাজে অনিয়ম, ২ বছরেও শেষ হয়নি,তদন্তের কথা বলেন জেলা প্রশাসক বর্ণাঢ্য আয়োজনে রুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল

মান্ডার অন্ধকার গলিতে মাদক সাম্রাজ্য: টাইগার পলাতক, সহযোগী আটক

প্রিয়া চৌধুরী :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মুগদা থানাধীন মান্ডা এলাকার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের গলি ও মলয় মেছের গলি একসময় যেখানে স্বাভাবিক নাগরিক জীবনের নিঃশ্বাস প্রবাহিত হতো, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে মাদক বাণিজ্যের এক নীরব অথচ ভয়ংকর অভয়ারণ্য। অভিযোগের তীর সরাসরি নিবদ্ধ কুখ্যাত মাদক কারবারি টাইগার ওরফে ইমন এবং তার সহযোগী, আত্মীয়তার সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারী হাসন রাজার দিকে; যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শৈথিল্য ও আইনি প্রয়োগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সাম্রাজ্য।

এলাকাবাসীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা টাইগারের ‘স্পট’-এ হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ নানাবিধ মরণনেশা। আশপাশের একাধিক হটস্পট জুড়ে দিনের পর দিন এই অবৈধ বেচাকেনা অব্যাহত থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে তা রূপ নিয়েছে এক প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মে। এর সরাসরি শিকার হচ্ছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম, যারা ধীরে ধীরে এই অন্ধকার নেশার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।

৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টায় মুগদা থানার এসআই সুমন মিয়া, এএসআই রবিউল এবং এএসআই শাহাদাত পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মলয় মেছের গলি থেকে হাসন রাজাকে তার নিজ ঘর হতে মাদকসহ আটক করা হয়। তবে অভিযানের আগাম আভাস পেয়ে মূল হোতা টাইগার ওরফে ইমন কৌশলে পালিয়ে যায়, যা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসন রাজা স্বীকার করে যে, সে মাদক বিক্রি ও সেবন উভয় কর্মকাণ্ডেই জড়িত এবং উদ্ধারকৃত মাদক টাইগারের সরবরাহকৃত। আত্মীয়তার সূত্রে সে নিজেকে টাইগারের বোনের জামাই এবং টাইগারকে তার আপন শ্যালক হিসেবে পরিচয় দেয়, যা এই অপরাধচক্রের পারিবারিক জাল বিস্তারের দিকটিও স্পষ্ট করে।

এদিকে, আটক হাসন রাজাকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে গণপিটুনির ঘটনায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্থানীয়দের এই প্রতিক্রিয়া যেমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শঙ্কা তৈরি করে, তেমনি এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে একইসঙ্গে এলাকাবাসী মুগদা থানা পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে আংশিক স্বস্তি প্রকাশ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মান্ডার অন্ধকার গলিতে মাদক সাম্রাজ্য: টাইগার পলাতক, সহযোগী আটক

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মুগদা থানাধীন মান্ডা এলাকার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের গলি ও মলয় মেছের গলি একসময় যেখানে স্বাভাবিক নাগরিক জীবনের নিঃশ্বাস প্রবাহিত হতো, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে মাদক বাণিজ্যের এক নীরব অথচ ভয়ংকর অভয়ারণ্য। অভিযোগের তীর সরাসরি নিবদ্ধ কুখ্যাত মাদক কারবারি টাইগার ওরফে ইমন এবং তার সহযোগী, আত্মীয়তার সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারী হাসন রাজার দিকে; যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শৈথিল্য ও আইনি প্রয়োগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সাম্রাজ্য।

এলাকাবাসীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা টাইগারের ‘স্পট’-এ হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ নানাবিধ মরণনেশা। আশপাশের একাধিক হটস্পট জুড়ে দিনের পর দিন এই অবৈধ বেচাকেনা অব্যাহত থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে তা রূপ নিয়েছে এক প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মে। এর সরাসরি শিকার হচ্ছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম, যারা ধীরে ধীরে এই অন্ধকার নেশার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।

৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টায় মুগদা থানার এসআই সুমন মিয়া, এএসআই রবিউল এবং এএসআই শাহাদাত পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মলয় মেছের গলি থেকে হাসন রাজাকে তার নিজ ঘর হতে মাদকসহ আটক করা হয়। তবে অভিযানের আগাম আভাস পেয়ে মূল হোতা টাইগার ওরফে ইমন কৌশলে পালিয়ে যায়, যা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসন রাজা স্বীকার করে যে, সে মাদক বিক্রি ও সেবন উভয় কর্মকাণ্ডেই জড়িত এবং উদ্ধারকৃত মাদক টাইগারের সরবরাহকৃত। আত্মীয়তার সূত্রে সে নিজেকে টাইগারের বোনের জামাই এবং টাইগারকে তার আপন শ্যালক হিসেবে পরিচয় দেয়, যা এই অপরাধচক্রের পারিবারিক জাল বিস্তারের দিকটিও স্পষ্ট করে।

এদিকে, আটক হাসন রাজাকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে গণপিটুনির ঘটনায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্থানীয়দের এই প্রতিক্রিয়া যেমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শঙ্কা তৈরি করে, তেমনি এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে একইসঙ্গে এলাকাবাসী মুগদা থানা পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে আংশিক স্বস্তি প্রকাশ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।