ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরো ৬ মাস বাড়ল, সু চিকে সাধারণ ক্ষমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
চলতি মাসেই মিয়ানমারের জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, জারি থাকা জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ। এর ফলে, আগস্টের জাতীয় নির্বাচনও আরও পেছাল। পেদশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বরাতে গত সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি। দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম এমআরটিভির তথ্য মতে, মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ে জরুরি অবস্থা সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে দেশটিতে যে জরুরি অবস্থা রয়েছে তার সময়কাল জুলাইয়ে শেষ হবে। এর জেরে আজ বৈঠকে বসে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ। সেই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে মিন্ট সুয়ে বলেছেন, ‘জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ানো হবে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়ে পরবর্তী ছয় মাস বলবৎ থাকবে।’ প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জান্তা সরকার। তবে, গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক সরকার জরুরি অবস্থা সময় বাড়ায়। ওই সময় জরুরি অধ্যাদেশ দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি অবস্থার সময় ছয় মাস বৃদ্ধি করে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়লে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে যায়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপরেই দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা চলছে। আর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে পশ্চিমারা।
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির জান্তা সরকার। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বন্দি ছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানায়, ৭ হাজারেরও বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৌদ্ধ চল্লিশা উপলক্ষে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিসহ ৭ হাজার বন্দীকে এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চিকে ৫টি ফৌজদারি মামলায় সাধারণ ক্ষমা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এখনও ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অং সান সু চিকে ক্ষমা করেছেন, যাকে সংশ্লিষ্ট আদালত সাজা দিয়েছিল। তবে তাকে আটকে রাখা হবে। অনেকগুলো অপরাধের মধ্যে মাত্র পাঁচটি অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর, বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুচিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ৭৮ বছর বয়সী সুচিকে রাজধানী নেপিতাওতে কারাগার থেকে গৃহবন্দী করা হয় বলে জানা গেছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরো ৬ মাস বাড়ল, সু চিকে সাধারণ ক্ষমা

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

এফএনএস
চলতি মাসেই মিয়ানমারের জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, জারি থাকা জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ। এর ফলে, আগস্টের জাতীয় নির্বাচনও আরও পেছাল। পেদশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বরাতে গত সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি। দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম এমআরটিভির তথ্য মতে, মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ে জরুরি অবস্থা সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে দেশটিতে যে জরুরি অবস্থা রয়েছে তার সময়কাল জুলাইয়ে শেষ হবে। এর জেরে আজ বৈঠকে বসে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ। সেই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে মিন্ট সুয়ে বলেছেন, ‘জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ানো হবে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়ে পরবর্তী ছয় মাস বলবৎ থাকবে।’ প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জান্তা সরকার। তবে, গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক সরকার জরুরি অবস্থা সময় বাড়ায়। ওই সময় জরুরি অধ্যাদেশ দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি অবস্থার সময় ছয় মাস বৃদ্ধি করে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়লে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে যায়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপরেই দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা চলছে। আর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে পশ্চিমারা।
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির জান্তা সরকার। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বন্দি ছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানায়, ৭ হাজারেরও বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৌদ্ধ চল্লিশা উপলক্ষে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিসহ ৭ হাজার বন্দীকে এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চিকে ৫টি ফৌজদারি মামলায় সাধারণ ক্ষমা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এখনও ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অং সান সু চিকে ক্ষমা করেছেন, যাকে সংশ্লিষ্ট আদালত সাজা দিয়েছিল। তবে তাকে আটকে রাখা হবে। অনেকগুলো অপরাধের মধ্যে মাত্র পাঁচটি অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর, বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুচিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ৭৮ বছর বয়সী সুচিকে রাজধানী নেপিতাওতে কারাগার থেকে গৃহবন্দী করা হয় বলে জানা গেছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে