ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

রহস্যঘেরা কে এই মিহির?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩ ২১৫ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস

মিডিয়া পাড়া এখন হুমায়রা হিমুর মৃত্যু নিয়ে বিভোর। রহস্যের জট খোলার চেষ্টা চলছে। তবে মোড় ঘুরে একজনের দিকেই যেন বার বার থামছে। তিনি একজন মেকআপ আর্টিস্ট। মিহির মোহন। জানা গেছে, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মৃত্যুর আগে একইভাবে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন এই মিহির। বছর পাঁচেক পর আবার একই ঘটনার অন্যরকম পুনরাবৃত্তি। গত বৃহস্পতিবার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু মারা গেছেন। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান মেকআপ আর্টিস্ট মিহির মোহন। এরআগে ২০১৮ সালের ২২ মে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকেও হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন মিহির, পরে তাজিন আহমেদ মারা যান। তবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাজিন আহমেদ উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। তার মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন এই মিহির। অভিনেত্রীর সঙ্গেই থাকতে দেখা যেত তাকে। তেমনি হুমায়রা হিমুও থাকতেন উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে। তার মা মারা যাওয়ার পর মিহিরই তাকে দেখাশোনা করতেন। অভিনেত্রীর বাড়িতেই থাকতেন এই মেকআপম্যান। মিডিয়ায় অনেক অভিনেত্রীর আস্থাভাজন মিহির। অনেকের ধারণা, অভিনেত্রী হিমুর মৃত্যু নিয়ে মিহিরের যুক্ততা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিনেতা জানান, মিহিরের সঙ্গে মেয়ে অভিনয়শিল্পীদের সুসম্পর্ক বেশি। প্রবাসী দুই অভিনেত্রীর সঙ্গেও আছে দারুন সম্পর্ক। যারা দেশে আসলেই মিহিরের স্বরনাপন্ন হন। জানা যায়, মিহিরের বাড়ি সিলেট। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার বিয়ে করেছেন। তবে তার দুই স্ত্রী-ই আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানা গেছে। মিহির সম্পর্কে উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেকআপ আর্টিস্ট মিহির একসময় অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর ব্যক্তিগত মেকআর্টিস্ট ছিল। আমরা তখন নিয়মিত কাজ করতাম। শ্রাবন্তী তখন প্রথম সারির নায়িকা। শ্রাবন্তী যখন মিহিরকে নিত তখন মিহিরের অনেক দাপট ছিল। শ্রাবন্তীর পরিবর্তনের সাথে সাথে মিহিরেরও অবস্থান পরিবর্তন হয়। তারপর মিহিরকে দেখা যায় তাজিন আপার সঙ্গে।’ তিনি আরও জানান, ‘তাজিন আপার মৃত্যুর ঘটনার সময়ও মিহির ছিল। একইভাবে হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর ঘটনায়ও মিহির ছিল।। হিমুর সমস্ত তথ্য, জীবনের যাপনের কষ্ট, সব কিছু মিহির জানে। মিহিরকে ডিবি বা পুলিশের ইন্টারোগেশনে আসা উচিত। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে এটা কি অপমৃত্যু, না অন্য কিছু।’ এদিকে মেকআপম্যানদের সংগঠন ‘মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়, মিহির একবার তাদের সংগঠনের ফরম পূরণ করেছিল কিন্তু পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করেনি। এমনকি পরে যোগাযোগও করেননি। তাই মিহির সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। হুমায়রা হিমুকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন রুফি ওরফে উরফি জিয়ার কাছ থেকে নানা ধরণের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমুর প্রেমিক উরফি জানিয়েছেন, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাকে মাদক এনে দিতেন হিমুর বাসায় থাকা মিহির। এদিকে র‌্যাব বলছে, মিহিরের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। মিহির অন্য অভিনয়শিল্পীদেরও মাদক দেয় কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। হিমুর প্রকৃত মৃত্যুর রহস্য জানতে তাই আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রহস্যঘেরা কে এই মিহির?

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩

এফএনএস

মিডিয়া পাড়া এখন হুমায়রা হিমুর মৃত্যু নিয়ে বিভোর। রহস্যের জট খোলার চেষ্টা চলছে। তবে মোড় ঘুরে একজনের দিকেই যেন বার বার থামছে। তিনি একজন মেকআপ আর্টিস্ট। মিহির মোহন। জানা গেছে, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মৃত্যুর আগে একইভাবে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন এই মিহির। বছর পাঁচেক পর আবার একই ঘটনার অন্যরকম পুনরাবৃত্তি। গত বৃহস্পতিবার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু মারা গেছেন। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান মেকআপ আর্টিস্ট মিহির মোহন। এরআগে ২০১৮ সালের ২২ মে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকেও হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন মিহির, পরে তাজিন আহমেদ মারা যান। তবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাজিন আহমেদ উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। তার মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন এই মিহির। অভিনেত্রীর সঙ্গেই থাকতে দেখা যেত তাকে। তেমনি হুমায়রা হিমুও থাকতেন উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে। তার মা মারা যাওয়ার পর মিহিরই তাকে দেখাশোনা করতেন। অভিনেত্রীর বাড়িতেই থাকতেন এই মেকআপম্যান। মিডিয়ায় অনেক অভিনেত্রীর আস্থাভাজন মিহির। অনেকের ধারণা, অভিনেত্রী হিমুর মৃত্যু নিয়ে মিহিরের যুক্ততা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিনেতা জানান, মিহিরের সঙ্গে মেয়ে অভিনয়শিল্পীদের সুসম্পর্ক বেশি। প্রবাসী দুই অভিনেত্রীর সঙ্গেও আছে দারুন সম্পর্ক। যারা দেশে আসলেই মিহিরের স্বরনাপন্ন হন। জানা যায়, মিহিরের বাড়ি সিলেট। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার বিয়ে করেছেন। তবে তার দুই স্ত্রী-ই আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানা গেছে। মিহির সম্পর্কে উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেকআপ আর্টিস্ট মিহির একসময় অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর ব্যক্তিগত মেকআর্টিস্ট ছিল। আমরা তখন নিয়মিত কাজ করতাম। শ্রাবন্তী তখন প্রথম সারির নায়িকা। শ্রাবন্তী যখন মিহিরকে নিত তখন মিহিরের অনেক দাপট ছিল। শ্রাবন্তীর পরিবর্তনের সাথে সাথে মিহিরেরও অবস্থান পরিবর্তন হয়। তারপর মিহিরকে দেখা যায় তাজিন আপার সঙ্গে।’ তিনি আরও জানান, ‘তাজিন আপার মৃত্যুর ঘটনার সময়ও মিহির ছিল। একইভাবে হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর ঘটনায়ও মিহির ছিল।। হিমুর সমস্ত তথ্য, জীবনের যাপনের কষ্ট, সব কিছু মিহির জানে। মিহিরকে ডিবি বা পুলিশের ইন্টারোগেশনে আসা উচিত। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে এটা কি অপমৃত্যু, না অন্য কিছু।’ এদিকে মেকআপম্যানদের সংগঠন ‘মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়, মিহির একবার তাদের সংগঠনের ফরম পূরণ করেছিল কিন্তু পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করেনি। এমনকি পরে যোগাযোগও করেননি। তাই মিহির সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। হুমায়রা হিমুকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন রুফি ওরফে উরফি জিয়ার কাছ থেকে নানা ধরণের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমুর প্রেমিক উরফি জানিয়েছেন, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাকে মাদক এনে দিতেন হিমুর বাসায় থাকা মিহির। এদিকে র‌্যাব বলছে, মিহিরের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। মিহির অন্য অভিনয়শিল্পীদেরও মাদক দেয় কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। হিমুর প্রকৃত মৃত্যুর রহস্য জানতে তাই আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।