ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাশিয়া থেকে কেনো এতো তেল কিনছে সৌদি আরব?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। একদিকে পশ্চিমাবিশ্বের নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে যুদ্ধের খরচ মিটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। জানা যায়, যুদ্ধের খরচ মিটাতে অল্প দামে জ¦ালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। তেশ সমৃদ্ধ দেশ হয়েও কেনো সৌদি আরব তেল কিনছে সে প্রশ্ন অনেকের। রাশিয়া থেকে ছাড়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরব। জুন মাসে রাশিয়া থেকে আগের চেয়ে দশগুণ বেশি তেল আমদানি করেছে দেশটি। ব্যবসায়ী ও কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন কমানোর পর গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা মেটাতে এবং অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বজায় রাখার জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে সৌদি আরব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। এমন অবস্থার মধ্যেও এসব রপ্তানির কারণে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগের ইউরোপে সবচেয়ে বেশি জ¦ালানি রপ্তানি করত রাশিয়া। তবে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সেই বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, সৌদি আরব জুন মাসে রাশিয়া থেকে রেকর্ড ৯ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন (প্রতিদিন ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেল) জ¦ালানি তেল আমদানি করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, রাশিয়ার পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর এই বছর রাশিয়া থেকে জ¦ালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে সৌদি। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে সৌদি আমদানি করেছে ২.৬৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন রুশ তেল। যা ২০২২ সালে ছিল ১.৬৩ মিলিয়ন মেট্রিক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের জ¦ালানি মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। কনসালটেন্সি এনার্জি অ্যাসপেক্টস এর জ¦ালানি তেল এবং ফিডস্টক বিশ্লেষক রয়স্টন হুয়ান বলেছেন, রাশিয়া থেকে প্রধানত উচ্চ-সালফার ফুয়েল অয়েল কার্গোগুলো বেশিরভাগই সৌদি তেল-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে যাত্রা শেষ করেছে। সৌদি আরব এই মাসে বলেছে যে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক প্লাস এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে তেল উৎপাদন কমিয়েছে। আগস্ট মাস থেকে দৈনিক আরও দশ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে সংস্থাটি। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, সস্তা রাশিয়ান জ¦ালানী তেলের পাশাপাশি ডিজেল আমদানি করছে এবং উচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য রপ্তানি বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি আরব জুলাই মাসে জ¦ালানি তেল রপ্তানি বাড়িয়ে ১.২ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার পূর্বাভাস দিয়েছে। জুন মাসে এই পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাশিয়া থেকে কেনো এতো তেল কিনছে সৌদি আরব?

আপডেট সময় : ০১:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩

এফএনএস
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। একদিকে পশ্চিমাবিশ্বের নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে যুদ্ধের খরচ মিটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। জানা যায়, যুদ্ধের খরচ মিটাতে অল্প দামে জ¦ালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। তেশ সমৃদ্ধ দেশ হয়েও কেনো সৌদি আরব তেল কিনছে সে প্রশ্ন অনেকের। রাশিয়া থেকে ছাড়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরব। জুন মাসে রাশিয়া থেকে আগের চেয়ে দশগুণ বেশি তেল আমদানি করেছে দেশটি। ব্যবসায়ী ও কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন কমানোর পর গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা মেটাতে এবং অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বজায় রাখার জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে সৌদি আরব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। এমন অবস্থার মধ্যেও এসব রপ্তানির কারণে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগের ইউরোপে সবচেয়ে বেশি জ¦ালানি রপ্তানি করত রাশিয়া। তবে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সেই বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, সৌদি আরব জুন মাসে রাশিয়া থেকে রেকর্ড ৯ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন (প্রতিদিন ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেল) জ¦ালানি তেল আমদানি করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, রাশিয়ার পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর এই বছর রাশিয়া থেকে জ¦ালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে সৌদি। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে সৌদি আমদানি করেছে ২.৬৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন রুশ তেল। যা ২০২২ সালে ছিল ১.৬৩ মিলিয়ন মেট্রিক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের জ¦ালানি মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। কনসালটেন্সি এনার্জি অ্যাসপেক্টস এর জ¦ালানি তেল এবং ফিডস্টক বিশ্লেষক রয়স্টন হুয়ান বলেছেন, রাশিয়া থেকে প্রধানত উচ্চ-সালফার ফুয়েল অয়েল কার্গোগুলো বেশিরভাগই সৌদি তেল-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে যাত্রা শেষ করেছে। সৌদি আরব এই মাসে বলেছে যে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক প্লাস এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে তেল উৎপাদন কমিয়েছে। আগস্ট মাস থেকে দৈনিক আরও দশ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে সংস্থাটি। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, সস্তা রাশিয়ান জ¦ালানী তেলের পাশাপাশি ডিজেল আমদানি করছে এবং উচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য রপ্তানি বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি আরব জুলাই মাসে জ¦ালানি তেল রপ্তানি বাড়িয়ে ১.২ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার পূর্বাভাস দিয়েছে। জুন মাসে এই পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সূত্র: রয়টার্স