সাঁথিয়ায় এক মাস শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে
- আপডেট সময় : ১০:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
পাবনার সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ২৩ তম দিনেও ক্লাস বর্জন করেছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এদিকে গত ৫ আগস্ট থেকে ওই প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত,দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের পদত্যাগ/অপসারণের একদফা দাবিতে গত ২৩ দিন সকল শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবক মাবনবন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল,প্রধান শিক্ষকের বাড়ি ঘেরাও, উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনশন এবং বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ও অবরুদ্ধ করে রাখে।
উল্লেখ্য,গত কয়েক বছর ধরে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের শাস্তি ও অপসারণ দাবি করে শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবকরা বিক্ষোভ,মিছিল,প্রতিবাদসভা করে আসছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একাধিকবার তালাও মেরেছে শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকবার তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
২০১৮ সালে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিরাজুল ইসলাম ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পত্র দেন। সাঁথিয়ায় দায়িত্বপালনকারী ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম,এসএম জামাল আহমেদ ওই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরে একাধিকবার পত্র দেন। এছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,জেলা শিক্ষা অফিসার,জেলা প্রশাসকও তার শাস্তি দাবি করে অধিদপ্তর,শিক্ষাবোর্ডে পত্র দেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ টাকা-পয়সা খরচ করে সব ফাইল গায়েব করেছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বারবার বিভিন্ন দপ্তরে হস্তক্ষেপ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণে বাধাগ্রস্ত করেছেন। শামসুল হক টুকু মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিজয় কুমার দেবনাথকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।বর্তমানেও সে বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছে যে আমাকে সাঁথিয়া, পাবনা এবং রাজশাহীর কোন কর্মকর্তা কিছুই করতে পারবেনা কারণ ঢাকার অফিস আমার ম্যানেজ করা।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের নিকট জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রীদের অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমিও শুনেছি। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










