ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল ঈশ্বরদীতে সারের ডিলার বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন,তদন্তের দাবী ঈশ্বরদীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস দুর্গাপূজায় যশোর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দামুড়হুদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে পুকুর খনন রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর

স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করায় নওগাঁয় যমুনা টিভির সাংবাদিককে মামলার হুমকির অভিযোগ

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এ বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজমের কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মামলার হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘিরে নওগাঁর বিভিন্ন টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শফিক ছোটন নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সাংবাদিক নেতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আরমান হোসেন রুমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এড়াতে পারে না। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপপরিচালক গোলাম মো. আজম সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। পরে অন্যান্য টেলিভিশন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে সবার সামনেই তাকে মামলার হুমকি দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতেই উপপরিচালক আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি ভিডিও জার্নালিস্টকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে পুনরায় সাক্ষাতে তাকে মামলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শফিক ছোটন।

এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয় বলেন, সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি উপপরিচালকের প্রকাশ্য হুমকি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার মতে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদুল করিম বলেন, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপপরিচালককে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম বলেন, যমুনা টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা বের করেছিলেন। এ কারণে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, তবে মারমুখী আচরণ করেননি বলে দাবি করেন। ক্যামেরায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করায় নওগাঁয় যমুনা টিভির সাংবাদিককে মামলার হুমকির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এ বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজমের কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মামলার হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘিরে নওগাঁর বিভিন্ন টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শফিক ছোটন নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সাংবাদিক নেতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আরমান হোসেন রুমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এড়াতে পারে না। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপপরিচালক গোলাম মো. আজম সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। পরে অন্যান্য টেলিভিশন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে সবার সামনেই তাকে মামলার হুমকি দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতেই উপপরিচালক আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি ভিডিও জার্নালিস্টকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে পুনরায় সাক্ষাতে তাকে মামলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শফিক ছোটন।

এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয় বলেন, সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি উপপরিচালকের প্রকাশ্য হুমকি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার মতে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদুল করিম বলেন, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপপরিচালককে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম বলেন, যমুনা টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা বের করেছিলেন। এ কারণে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, তবে মারমুখী আচরণ করেননি বলে দাবি করেন। ক্যামেরায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।