রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে খেঁজুরের গুড় ।
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫ ২৫৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি করা সুস্বাদু খেঁজুরের গুড়। আর এসব গুড় আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোজ।
রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১০টি গুড় পরীক্ষা করে সবকটিতে হাইড্রোজে ও ডিটারজেন্টের উপস্থিত পেয়েছেন। গুড়ে ভয়ঙ্কর হাইড্রোজ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে বাড়ছে ক্যানসার ও কিডনি রোগের ঝুঁকি।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ৩০০ ট্রাকে গো-খাদ্যের চিনি আমদানি করা হয় ভারত থেকে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০ টন করে চিনি থাকে। সে হিসাবে আমদানি করা হয়েছে ১২ হাজার টন। ডিসেম্বর মাসে সেটি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এ মাসে ৬০০ ট্রাক চিনি আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১১ দিনে আমদানি করা হয়েছে ১৪০ গাড়ি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার প্রায় ১১ লাখ ৮ হাজার ১৮টি খেজুর গাছ রয়েছে। একটি গাছে বছরে ২০ কেজি খেজুরের রস হয়। সেটি থেকে ৮ কেজি গুড় হয়। সে হিসাবে গুড়ের উৎপাদন হতে পারে ৮৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৬ কেজি। আর বিক্রি হবে ১৪১ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অনলাইনের বাজার ধরলে মোট গুড় বিক্রি হবে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।
বানেশ্বরে একটি গুড় তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, চুলায় জ্বাল দেওয়া হচ্ছে খেজুরের রস। কিছুটা গরম হলেই তাতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারত থেকে গো-খাদ্যের নামে আনা নিম্নমানের টিনজাত চিনি। গুড়ের ঘনত্ব বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে ডালডা আর আটা। দেখতে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার হচ্ছে রং ও হাইড্রোজ।
রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, গত বছর আমরা ১০টি গুড় সংগ্রহ করেছিলাম। তাতে দেখা গেছে, কোনো গুড়ই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব গুড়ে ফিটকিরি ও ডিটারজেন্ট পাওয়া গেছিল। এ বছর আমরা পরীক্ষা এখনো শুরু করতে পারিনি। তবে এর মধ্যে আমরা ফলোআপের জন্য নমুনা সংগ্রহ করবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, এমন অনিয়ম কৃষক পর্যায়ে নেই বললেই চলে। যারা ব্যবসা করে, তারা এসব করলে করতে পারে। কৃষক যে গুড় তৈরি করছে সেইসব গুড় অবশ্যই নির্ভেজাল।
























