ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

নওগাঁর মান্দায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, বৃষ্টিতেই ভাঙছে খালপাড়

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজ শেষে খালের দুই পাশে পাড় নির্মাণ না করে সেখানকার মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে খালপাড় ধসে পড়ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এতে প্রকল্পের মান, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চকসাবাই, চকের বিল ও ঘোনা খাল এবং ভারশোঁ ইউনিয়নের বিল উথরাইল (পৈতা) খাল পুনঃখননের জন্য দুটি প্যাকেজে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক)। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলেও ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চারটি খালের কোনো কাজই পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে খালগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চকসাবাই খালে এক কিলোমিটার পুনঃখননের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রায় অর্ধেক অংশে কাজ করা হয়েছে। খালের দুই পাশ থেকে মাটি তুলে রাখা হলেও কোথাও স্থায়ীভাবে পাড় নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে সেই মাটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাড় ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া ঘোনা খালের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চকের বিল ও বিল উথরাইল (পৈতা) খালে সামান্য খনন করেই কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

চকসাবাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, “খালটি নামমাত্র খনন করেই খননযন্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খালের পাড়ের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পাড় না থাকায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, “প্রকল্পের লোকজন স্থানীয়দের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন। আমিও আট হাজার টাকায় মাটি কিনে বাড়ির চারপাশ ভরাট করেছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভার্কের মান্দা উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়ক আবু রায়হান। তিনি বলেন, “চকসাবাই ও ঘোনা খালের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও সময়ের স্বল্পতার কারণে বাকি দুটি খালের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। খালের মাটি বিক্রি বা অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি জানান, “কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের কাজের মান, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী টেকসইভাবে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন না হলে সরকারি ও দাতা সংস্থার বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁর মান্দায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, বৃষ্টিতেই ভাঙছে খালপাড়

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজ শেষে খালের দুই পাশে পাড় নির্মাণ না করে সেখানকার মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে খালপাড় ধসে পড়ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এতে প্রকল্পের মান, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চকসাবাই, চকের বিল ও ঘোনা খাল এবং ভারশোঁ ইউনিয়নের বিল উথরাইল (পৈতা) খাল পুনঃখননের জন্য দুটি প্যাকেজে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক)। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলেও ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চারটি খালের কোনো কাজই পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে খালগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চকসাবাই খালে এক কিলোমিটার পুনঃখননের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রায় অর্ধেক অংশে কাজ করা হয়েছে। খালের দুই পাশ থেকে মাটি তুলে রাখা হলেও কোথাও স্থায়ীভাবে পাড় নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে সেই মাটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাড় ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া ঘোনা খালের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চকের বিল ও বিল উথরাইল (পৈতা) খালে সামান্য খনন করেই কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

চকসাবাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, “খালটি নামমাত্র খনন করেই খননযন্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খালের পাড়ের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পাড় না থাকায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, “প্রকল্পের লোকজন স্থানীয়দের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন। আমিও আট হাজার টাকায় মাটি কিনে বাড়ির চারপাশ ভরাট করেছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভার্কের মান্দা উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়ক আবু রায়হান। তিনি বলেন, “চকসাবাই ও ঘোনা খালের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও সময়ের স্বল্পতার কারণে বাকি দুটি খালের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। খালের মাটি বিক্রি বা অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি জানান, “কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের কাজের মান, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী টেকসইভাবে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন না হলে সরকারি ও দাতা সংস্থার বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না।