ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কারাগারে শীর্ষ মাদক কারবারি ফেন্সি সামির-ফর্মা হৃদয়, অনুসারীদের ভয়াবহ তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভারে এক নারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বাড়িতে হামলার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং হৃদয় হোসেন ওরফে ফর্মা হৃদয় কারাগারে থাকলেও তাদের সিন্ডিকেট সহযোগী অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দেওগাঁও এলাকার বাসিন্দা নিলুফা ইয়াশমিন লিমা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে গত ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী সোহরাব হোসেনকেও মারধর করা হয়, সোহরাবের অন্ডকোষ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টাও করে নারী অভিযুক্তরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াশমিন লিমাকে জোরপূর্বক পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত নিলুফা ইয়াশমিন লিমা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং মাদক ব্যবসাসহ নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও গতিবিধির ওপর নজরদারি করত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, অভিযোগে নাম আসা মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি কিশোর অপহরণ ও নির্যাতন, গ্যারেজে হামলা, অটোরিকশা ও মালামাল লুট, চাঁদাবাজিসহ একাধিক আলোচিত মামলার আসামি হিসেবে তাকে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়াও দেড় কোটি টাকা মূল্যের হিরোইনসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদক মামলায় অভিযুক্ত হৃদয় হোসেন ওরফে ফর্মা হৃদয়ও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে কারাগারে থাকলেও তাদের নাম ব্যবহার করে কিংবা তাদের পূর্বপরিচিতদের ছত্রছায়ায় এলাকায় এখনও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে।

এদিকে, এ অভিযোগের পর অভিযুক্তরাও বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রকৃত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে করা ওই অভিযোগে পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকা কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির নামও জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কারাগারে শীর্ষ মাদক কারবারি ফেন্সি সামির-ফর্মা হৃদয়, অনুসারীদের ভয়াবহ তাণ্ডব

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভারে এক নারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বাড়িতে হামলার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং হৃদয় হোসেন ওরফে ফর্মা হৃদয় কারাগারে থাকলেও তাদের সিন্ডিকেট সহযোগী অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দেওগাঁও এলাকার বাসিন্দা নিলুফা ইয়াশমিন লিমা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে গত ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী সোহরাব হোসেনকেও মারধর করা হয়, সোহরাবের অন্ডকোষ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টাও করে নারী অভিযুক্তরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াশমিন লিমাকে জোরপূর্বক পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত নিলুফা ইয়াশমিন লিমা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং মাদক ব্যবসাসহ নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও গতিবিধির ওপর নজরদারি করত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, অভিযোগে নাম আসা মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি কিশোর অপহরণ ও নির্যাতন, গ্যারেজে হামলা, অটোরিকশা ও মালামাল লুট, চাঁদাবাজিসহ একাধিক আলোচিত মামলার আসামি হিসেবে তাকে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়াও দেড় কোটি টাকা মূল্যের হিরোইনসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদক মামলায় অভিযুক্ত হৃদয় হোসেন ওরফে ফর্মা হৃদয়ও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে কারাগারে থাকলেও তাদের নাম ব্যবহার করে কিংবা তাদের পূর্বপরিচিতদের ছত্রছায়ায় এলাকায় এখনও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে।

এদিকে, এ অভিযোগের পর অভিযুক্তরাও বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রকৃত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে করা ওই অভিযোগে পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকা কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির নামও জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”