ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

নওগাঁর ধামইরহাটে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি অভিযোগে গ্রেফতার-৩

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর ধামইরহাটে নবম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানী ও পরিবারের সদস্যদের মেরে গুরুতর আহত করার অভিযোগে তাকমিম হোসেন (২২), জিন্নাতুন বেগম (৪৫) ও মরিয়ম (২২) বেগম নামের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। শনিবার (৪ জুন) ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকার আলম হোসেনের স্ত্রী জিন্নাতুন বেগম, ছেলে তাকমিম হোসেন ও বড় ছেলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ধামইরহাট থানা-পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জগদল ফারাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে মাদ্রাসায় যাওয়া আসার সময় অভিযুক্ত তাকমিম হোসেন প্রায় সময় শিক্ষার্থীকে রাস্তাঘাটে একা পেয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন শনিবার ভুক্তভোগীর পিতা আনোয়ার হোসেন (৪৮) বাদি হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই শিক্ষার্থী মাঠে ছাগল বেঁধে বাড়ি ফিরছিল। এসময় আবু হেনা মোস্তফা কামালের মালটা বাগানের কাছে ওত পেতে থাকা ওই যুবক যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হাত ধরে টেনে হেঁচড়ে মালটার বাগানের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা প্রতিবাদ করায়, অভিযুক্তরা বাড়ি এসে শিক্ষার্থীসহ তার মা ও ছোট ভাইকে মেরে গুরুতর আহত করে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলেও অভিযোগে জানানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে তাকমিম বলেন, ’সকালের দিকে বাইসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর মা আমাকে থামিয়ে বেদম মারপিট করে আহত করে। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আদায় করেছে।‘

অভিযুক্ত তাকমিমের মা জিন্নাতুন বেগম বলেন, ’মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেকে মারার বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করতে যাই। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের লোকজন আমাদের মেরে গুরুতর আহত করে।‘ চক্রান্ত করে ছেলেসহ তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ’ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গতকাল শনিবার রাতে ধামইরহাট থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শিবরামপুর গ্রাম থেকে তাকমিম হোসেনকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরেরদিন রোববার সকালে ওই যুবকের মা জিন্নাতুন বেগম ও মরিয়ম বেগমকে গ্রেফ করা হয়েছে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের পর দুপুরে তাদেরকে জেলা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁর ধামইরহাটে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি অভিযোগে গ্রেফতার-৩

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে নবম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানী ও পরিবারের সদস্যদের মেরে গুরুতর আহত করার অভিযোগে তাকমিম হোসেন (২২), জিন্নাতুন বেগম (৪৫) ও মরিয়ম (২২) বেগম নামের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। শনিবার (৪ জুন) ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকার আলম হোসেনের স্ত্রী জিন্নাতুন বেগম, ছেলে তাকমিম হোসেন ও বড় ছেলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ধামইরহাট থানা-পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জগদল ফারাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে মাদ্রাসায় যাওয়া আসার সময় অভিযুক্ত তাকমিম হোসেন প্রায় সময় শিক্ষার্থীকে রাস্তাঘাটে একা পেয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন শনিবার ভুক্তভোগীর পিতা আনোয়ার হোসেন (৪৮) বাদি হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই শিক্ষার্থী মাঠে ছাগল বেঁধে বাড়ি ফিরছিল। এসময় আবু হেনা মোস্তফা কামালের মালটা বাগানের কাছে ওত পেতে থাকা ওই যুবক যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হাত ধরে টেনে হেঁচড়ে মালটার বাগানের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা প্রতিবাদ করায়, অভিযুক্তরা বাড়ি এসে শিক্ষার্থীসহ তার মা ও ছোট ভাইকে মেরে গুরুতর আহত করে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলেও অভিযোগে জানানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে তাকমিম বলেন, ’সকালের দিকে বাইসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর মা আমাকে থামিয়ে বেদম মারপিট করে আহত করে। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আদায় করেছে।‘

অভিযুক্ত তাকমিমের মা জিন্নাতুন বেগম বলেন, ’মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেকে মারার বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করতে যাই। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের লোকজন আমাদের মেরে গুরুতর আহত করে।‘ চক্রান্ত করে ছেলেসহ তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ’ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গতকাল শনিবার রাতে ধামইরহাট থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শিবরামপুর গ্রাম থেকে তাকমিম হোসেনকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরেরদিন রোববার সকালে ওই যুবকের মা জিন্নাতুন বেগম ও মরিয়ম বেগমকে গ্রেফ করা হয়েছে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের পর দুপুরে তাদেরকে জেলা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।