ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

চাঁচড়ায় মামা ভাগ্নে পরিষদ নিয়ে বিপাকে মানুষ

মালিকুজ্জামান কাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়ায় মামা ভাগ্নে পরিষদ নিয়ে বিপাকে জন সাধারণ। শালিশের নামে নিরীহ মানুষজনকে মারধোর করে অর্থ আদায়, অন্যান্য হয়রানি ছাড়াও নানা ভাবে নিগৃহিত করা হচ্ছে বলে জোর অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিন ইউনিয়ন এলাকায় কেউ না কেউ এই পরিষদ পরিচালক বা চামুন্ডা কতৃক হয়রানি হচ্ছেই। এই পরিষদ বর্তমানে সেখানে মানুষজন কতৃক ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।

বিএনপির দু চারজন এবং টাউট শ্রেণীর কয়েকজনকে নিয়ে এই মামু বা মামা ভাগ্নে পরিষদ। এদের প্রতিদিনের অপকর্মে নাজেহাল সাধারণ জনতা। ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাত, চায়ের দোকানে বাকি খেয়ে পরিসোধ না করা, বিচারের নামে টাকা খাওয়া, মানুষজনকে মারধোর, অবৈধ মাদক কারবারে মদদ প্রদান, জন সাধারণের উপর অযথা খবরদারি চলছে। আর তা করছে মামা ভাগ্নে পরিষদের চ্যালা চামুন্ডা হর্তা কর্তারা।স্থানীয়রা বিএনপির নেতৃ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানা গেছে, মামা ভাগ্নে পরিষদের মামা হচ্ছেন ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল আলম। আর ভাগ্নে হলেন ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান। তিনি চাঁচড়া মধ্যপাড়ার সামাদের ছেলে। এদের সাথে কো অর্ডিনেটর রয়েছেন ইউপি বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আশা ও চাঁচড়া সাত নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি গ্যাস বাবু। সাথে আরো আছে কয়েক জন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এসব মাদক কারবারির ২/৩ জন এখনো মাদকদ্রব্যসহ আটক হয়ে বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীন।

মামা ভাগ্নে পরিষদের ভাগ্নে আব্দুল মান্নান ও গ্যাস বাবু এই সপ্তাহে চাঁচড়ার ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী মোটা মিলনকে আটকে রেখে মারধোর করে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে। মিলনের অপরাধ তার কোন একটি গাড়ি গ্যাস বাবুর গেটে লাগে। এরপর তাকে বেদম মারধোর করে প্রহসনের শালিশের নামে ঐ টাকা ধার্য করে আদায় করা হয়েছে। ঐ সালিশে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ টগর উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মোটা মিলনের যে গাড়ি দরজায় আঘাত করেছে তা নেহায়েত সামান্য। যদি ক্ষতি হয়ে থাকে তবে দু চার হাজার টাকা সংস্কারে যথেষ্ট। কিন্তু গায়ের জোর দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ধার্য ও আদায় করা হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চাঁচড়া কলোনীর মাদক ব্যবসায় মামা ভাগ্নে পরিষদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ফলে সেখানে মাদক কারবার বন্ধ হচ্ছেনা। আশরাফ, সোহাগ, রুবেল, নূর আলম মাদক কারবারিকে মামা ভাগ্নে পরিষদের নেতাদের সাথে দেখা যায়।

এই চক্রের সদস্য আব্দুল মান্নান চাঁচড়া আমবাগান এলাকার পারুলের কাছ থেকে আবাসনে ঘর দেবে বলে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছে। নজরুলের স্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড করে দেবে বলে তিন হাজার টাকা নিয়েছে। হাসিনার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে আর দিচ্ছে না। চায়ের দোকানে বাকি খেয়ে আর টাকা পরিশোধ করেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ মূলত উল্লেখিত সামাজিক অপরাধে চাঁচড়ায় বিএনপির ভোট ব্যাংকে ধ্বস নেমেছে। অথচ এই চাঁচড়া ছিল বিএনপির বলিষ্ঠ দুর্গ।

এসব বিষয়ে চাঁচড়ার বিএনপির শুভাকাঙ্খীরা বিএনপির প্রতাপশালি নেতা জননেতা গুরু তরিকুল ইসলামের ছেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত ও যশোর জেলা বিএনপির আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। নইলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চাঁচড়ায় মামা ভাগ্নে পরিষদ নিয়ে বিপাকে মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়ায় মামা ভাগ্নে পরিষদ নিয়ে বিপাকে জন সাধারণ। শালিশের নামে নিরীহ মানুষজনকে মারধোর করে অর্থ আদায়, অন্যান্য হয়রানি ছাড়াও নানা ভাবে নিগৃহিত করা হচ্ছে বলে জোর অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিন ইউনিয়ন এলাকায় কেউ না কেউ এই পরিষদ পরিচালক বা চামুন্ডা কতৃক হয়রানি হচ্ছেই। এই পরিষদ বর্তমানে সেখানে মানুষজন কতৃক ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।

বিএনপির দু চারজন এবং টাউট শ্রেণীর কয়েকজনকে নিয়ে এই মামু বা মামা ভাগ্নে পরিষদ। এদের প্রতিদিনের অপকর্মে নাজেহাল সাধারণ জনতা। ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাত, চায়ের দোকানে বাকি খেয়ে পরিসোধ না করা, বিচারের নামে টাকা খাওয়া, মানুষজনকে মারধোর, অবৈধ মাদক কারবারে মদদ প্রদান, জন সাধারণের উপর অযথা খবরদারি চলছে। আর তা করছে মামা ভাগ্নে পরিষদের চ্যালা চামুন্ডা হর্তা কর্তারা।স্থানীয়রা বিএনপির নেতৃ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানা গেছে, মামা ভাগ্নে পরিষদের মামা হচ্ছেন ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল আলম। আর ভাগ্নে হলেন ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান। তিনি চাঁচড়া মধ্যপাড়ার সামাদের ছেলে। এদের সাথে কো অর্ডিনেটর রয়েছেন ইউপি বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আশা ও চাঁচড়া সাত নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি গ্যাস বাবু। সাথে আরো আছে কয়েক জন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এসব মাদক কারবারির ২/৩ জন এখনো মাদকদ্রব্যসহ আটক হয়ে বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীন।

মামা ভাগ্নে পরিষদের ভাগ্নে আব্দুল মান্নান ও গ্যাস বাবু এই সপ্তাহে চাঁচড়ার ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী মোটা মিলনকে আটকে রেখে মারধোর করে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে। মিলনের অপরাধ তার কোন একটি গাড়ি গ্যাস বাবুর গেটে লাগে। এরপর তাকে বেদম মারধোর করে প্রহসনের শালিশের নামে ঐ টাকা ধার্য করে আদায় করা হয়েছে। ঐ সালিশে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ টগর উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মোটা মিলনের যে গাড়ি দরজায় আঘাত করেছে তা নেহায়েত সামান্য। যদি ক্ষতি হয়ে থাকে তবে দু চার হাজার টাকা সংস্কারে যথেষ্ট। কিন্তু গায়ের জোর দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ধার্য ও আদায় করা হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চাঁচড়া কলোনীর মাদক ব্যবসায় মামা ভাগ্নে পরিষদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ফলে সেখানে মাদক কারবার বন্ধ হচ্ছেনা। আশরাফ, সোহাগ, রুবেল, নূর আলম মাদক কারবারিকে মামা ভাগ্নে পরিষদের নেতাদের সাথে দেখা যায়।

এই চক্রের সদস্য আব্দুল মান্নান চাঁচড়া আমবাগান এলাকার পারুলের কাছ থেকে আবাসনে ঘর দেবে বলে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছে। নজরুলের স্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড করে দেবে বলে তিন হাজার টাকা নিয়েছে। হাসিনার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে আর দিচ্ছে না। চায়ের দোকানে বাকি খেয়ে আর টাকা পরিশোধ করেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ মূলত উল্লেখিত সামাজিক অপরাধে চাঁচড়ায় বিএনপির ভোট ব্যাংকে ধ্বস নেমেছে। অথচ এই চাঁচড়া ছিল বিএনপির বলিষ্ঠ দুর্গ।

এসব বিষয়ে চাঁচড়ার বিএনপির শুভাকাঙ্খীরা বিএনপির প্রতাপশালি নেতা জননেতা গুরু তরিকুল ইসলামের ছেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত ও যশোর জেলা বিএনপির আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। নইলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।