ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের দাবি বাকবিশিস-এর

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: আহমদ রেজা
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’-এর উত্তরপত্র মূল্যায়নসংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।

সংগঠনটি অনিচ্ছাকৃত মূল্যায়নগত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের জন্য পরীক্ষককে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এই বিধানকে দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর, অযৌক্তিক ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

তাদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্বকে প্রশাসনিক বা একাডেমিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়; একে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এ ধরনের ভুলের জন্য কারাদণ্ডের বিধান নেই। সেখানে প্রশাসনিক, বিভাগীয় কিংবা আর্থিক শাস্তির ব্যবস্থা বিদ্যমান।

বাকবিশিস নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর বর্তমান বিধিমালাতেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নতুন আইনে কারাদণ্ডের বিধান শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে এবং পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। এছাড়া, অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি অনেকাংশেই আপেক্ষিক এবং এর সুস্পষ্ট মানদণ্ডও নির্ধারিত নয়।

সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ২০ শতাংশের বেশি নম্বরের পার্থক্য দেখা গেলে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণই যথাযথ সমাধান হতে পারে।

পরিশেষে, শিক্ষকদের সম্মান, পেশাগত স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল করে বিষয়টি আগের মতো প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের দাবি বাকবিশিস-এর

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’-এর উত্তরপত্র মূল্যায়নসংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।

সংগঠনটি অনিচ্ছাকৃত মূল্যায়নগত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের জন্য পরীক্ষককে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এই বিধানকে দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর, অযৌক্তিক ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

তাদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্বকে প্রশাসনিক বা একাডেমিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়; একে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এ ধরনের ভুলের জন্য কারাদণ্ডের বিধান নেই। সেখানে প্রশাসনিক, বিভাগীয় কিংবা আর্থিক শাস্তির ব্যবস্থা বিদ্যমান।

বাকবিশিস নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর বর্তমান বিধিমালাতেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নতুন আইনে কারাদণ্ডের বিধান শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে এবং পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। এছাড়া, অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি অনেকাংশেই আপেক্ষিক এবং এর সুস্পষ্ট মানদণ্ডও নির্ধারিত নয়।

সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ২০ শতাংশের বেশি নম্বরের পার্থক্য দেখা গেলে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণই যথাযথ সমাধান হতে পারে।

পরিশেষে, শিক্ষকদের সম্মান, পেশাগত স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল করে বিষয়টি আগের মতো প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।