ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগে

এম এ মজিদ ​নওগাঁ
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবশেষে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল নিয়ম মেনে সড়কের পাশের গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ, নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাছের ছায়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি রক্ষার স্বার্থেই সরকারি নিয়মনীতি মেনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি সড়কের পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ আটকে ছিল। এছাড়া, ইউক্যালিপটাস গাছের শিকড় ও অতিরিক্ত ছায়ার কারণে সড়কের পাশের কৃষিজমিতে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই গাছগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​গাছগুলো কাটার পূর্বে নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধ উপায়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করে ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর’ (এফডব্লিউএডি) এবং ৭নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ। গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই উন্মুক্ত নিলামে বিভিন্ন এলাকার মোট ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা দর হেঁকে গাছগুলো কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরদিন থেকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছ কাটার কাজ শুরু করেন ক্রেতার নিয়োজিত শ্রমিকরা।

​এই নিলাম প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আইনি ও বিতর্কহীন করতে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডি-এর চেয়ারম্যান কে.এম লুৎফর রহমান খান, মটগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সাদারুল ইসলাম, গ্রামপুলিশ ও দফাদার মমতাজ হোসেন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে সড়কটি প্রশস্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং কৃষকরা তাদের জমিতে পুরোদমে ফসল ফলাতে পারবেন।

​নিলামের স্বচ্ছতার বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “এখানে কোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়নি। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকেও যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

​তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই কাজ সম্পন্ন হলেও, ব্যক্তিগত সুবিধা বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগে

আপডেট সময় : ০৫:২১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবশেষে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল নিয়ম মেনে সড়কের পাশের গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ, নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাছের ছায়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি রক্ষার স্বার্থেই সরকারি নিয়মনীতি মেনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি সড়কের পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ আটকে ছিল। এছাড়া, ইউক্যালিপটাস গাছের শিকড় ও অতিরিক্ত ছায়ার কারণে সড়কের পাশের কৃষিজমিতে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই গাছগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​গাছগুলো কাটার পূর্বে নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধ উপায়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করে ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর’ (এফডব্লিউএডি) এবং ৭নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ। গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই উন্মুক্ত নিলামে বিভিন্ন এলাকার মোট ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা দর হেঁকে গাছগুলো কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরদিন থেকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছ কাটার কাজ শুরু করেন ক্রেতার নিয়োজিত শ্রমিকরা।

​এই নিলাম প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আইনি ও বিতর্কহীন করতে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডি-এর চেয়ারম্যান কে.এম লুৎফর রহমান খান, মটগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সাদারুল ইসলাম, গ্রামপুলিশ ও দফাদার মমতাজ হোসেন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে সড়কটি প্রশস্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং কৃষকরা তাদের জমিতে পুরোদমে ফসল ফলাতে পারবেন।

​নিলামের স্বচ্ছতার বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “এখানে কোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়নি। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকেও যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

​তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই কাজ সম্পন্ন হলেও, ব্যক্তিগত সুবিধা বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।