ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

মান্দায় ১১ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা, ১০ লাখ টাকা খুইয়ে প্রতারণার শিকার নার্গিস

মোঃ মমিন আলী, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার নার্গিস খাতুনের জীবনে। অভিযোগ, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর টানা ১১ বছর বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও তিনি কোনো বেতন পাননি।

ঘটনাটি মান্দা উপজেলার জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের। ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুন উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে নার্গিস আবেদন করেন। ২৪ জুলাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ২৭ জুলাই তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান তাঁকে যোগদানপত্র প্রদান করেন এবং ১ আগস্ট তিনি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

এরপর থেকে নিয়মিত পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও তাঁর চাকরি এমপিওভুক্ত হয়নি এবং তিনি কোনো বেতন-ভাতা পাননি।

নার্গিস খাতুনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন সমাজবিজ্ঞান পদে আগে থেকেই একজন ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ, পদটি শূন্য ছিল না। তিনি বলেন, “বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই সময়ক্ষেপণ করতেন। নিয়োগের সময় জমি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রধান শিক্ষককে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি, প্রতারণার মাধ্যমে আমাকে ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাকরির বয়সও শেষ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, “প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, একটি পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আরেকজনকে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর বিনা বেতনে কাজ করানো হলো?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, “সাক্ষাতে কথা হবে,” এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সফিউল আলম বলেন, “কোনো পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাকরির বয়স শেষ, হাতে নেই সঞ্চয়, হারিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নার্গিস খাতুন।

বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মান্দায় ১১ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা, ১০ লাখ টাকা খুইয়ে প্রতারণার শিকার নার্গিস

আপডেট সময় : ০৮:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার নার্গিস খাতুনের জীবনে। অভিযোগ, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর টানা ১১ বছর বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও তিনি কোনো বেতন পাননি।

ঘটনাটি মান্দা উপজেলার জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের। ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুন উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে নার্গিস আবেদন করেন। ২৪ জুলাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ২৭ জুলাই তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান তাঁকে যোগদানপত্র প্রদান করেন এবং ১ আগস্ট তিনি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

এরপর থেকে নিয়মিত পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও তাঁর চাকরি এমপিওভুক্ত হয়নি এবং তিনি কোনো বেতন-ভাতা পাননি।

নার্গিস খাতুনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন সমাজবিজ্ঞান পদে আগে থেকেই একজন ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ, পদটি শূন্য ছিল না। তিনি বলেন, “বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই সময়ক্ষেপণ করতেন। নিয়োগের সময় জমি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রধান শিক্ষককে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি, প্রতারণার মাধ্যমে আমাকে ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাকরির বয়সও শেষ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, “প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, একটি পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আরেকজনকে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর বিনা বেতনে কাজ করানো হলো?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, “সাক্ষাতে কথা হবে,” এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সফিউল আলম বলেন, “কোনো পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাকরির বয়স শেষ, হাতে নেই সঞ্চয়, হারিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নার্গিস খাতুন।

বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।