ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

ভোলায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ ৩৯৪ বার পড়া হয়েছে

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর জোয়ারের কারণে ডুবে আছে ভোলার শত শত হেক্টর জমির আমনের বীজতলা। জলাবদ্ধতার কারণে এসব বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

যে মুহূর্তে বীজতলায় চারা গজিয়ে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে দিশেহারা চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এমন সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ মৌসুমে বেশি লাভের আশায় আমন আবাদ শুরু করেন চাষিরা। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি করেন তারা। কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে আমনের বীজতলা দেখা গেলেও গত নয়দিনের টানা বর্ষণে ডুবে গেছে ক্ষেত।

জেলার ১১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে। ডুবে থাকা কোনো কোনো ক্ষেতের চারায় পচন ধরেছে। একই অবস্থা গ্রীষ্মকালীন সবজিরও।

এতে চরমভাবে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তাদের অনেকেই এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা।

ভোলা সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ বীজতলা। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক হারুন জানান, এ বছর তিনি ১৫ গণ্ডা (১ গণ্ডা= ১.৯৮৩৪৭১০৭৪৩৮০১৬৫১ শতাংশ ) জমিতে আমনের বীজতলা করেছেন। কিন্তু সবই এখন পানির নিচে।

একই অবস্থার কথা জানান কামাল, শাহিন, ইউসুফ ও সেলিম নামের কয়েকজন কৃষক।

তাদের ভাষ্য, এ বছরের মতো এমন বৃষ্টি আগে হয়নি। তার মধ্যে আবার জোয়ারের পানিও বেড়েছে। এতে ক্ষেত ডুবে আছে। পচন ধরেছে জালার (বীজতলা)।  আমাদের লোকসান হবে। নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করতে অনেক টাকা খরচ হবে। এ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

এদিকে ভোলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, এ মাসের শুরু থেকে গত আটদিনে জেলায় ৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতেই উপকূলের নিচু এলাকা ডুবে যায়।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আপাতত বৃষ্টি না হলেও আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কৃষকদের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে সব বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাসান  ওয়ারিসুল কবীর বলেন, শতভাগ বীজতলায় পানি জমেছে, ক্ষতির বিষয়টি তবে এখনই বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিয়েছি কৃষকদের।

এ বছর জেলায় এক লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভোলায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

আপডেট সময় : ১২:৪৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর জোয়ারের কারণে ডুবে আছে ভোলার শত শত হেক্টর জমির আমনের বীজতলা। জলাবদ্ধতার কারণে এসব বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

যে মুহূর্তে বীজতলায় চারা গজিয়ে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে দিশেহারা চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এমন সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ মৌসুমে বেশি লাভের আশায় আমন আবাদ শুরু করেন চাষিরা। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি করেন তারা। কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে আমনের বীজতলা দেখা গেলেও গত নয়দিনের টানা বর্ষণে ডুবে গেছে ক্ষেত।

জেলার ১১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে। ডুবে থাকা কোনো কোনো ক্ষেতের চারায় পচন ধরেছে। একই অবস্থা গ্রীষ্মকালীন সবজিরও।

এতে চরমভাবে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তাদের অনেকেই এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা।

ভোলা সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ বীজতলা। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক হারুন জানান, এ বছর তিনি ১৫ গণ্ডা (১ গণ্ডা= ১.৯৮৩৪৭১০৭৪৩৮০১৬৫১ শতাংশ ) জমিতে আমনের বীজতলা করেছেন। কিন্তু সবই এখন পানির নিচে।

একই অবস্থার কথা জানান কামাল, শাহিন, ইউসুফ ও সেলিম নামের কয়েকজন কৃষক।

তাদের ভাষ্য, এ বছরের মতো এমন বৃষ্টি আগে হয়নি। তার মধ্যে আবার জোয়ারের পানিও বেড়েছে। এতে ক্ষেত ডুবে আছে। পচন ধরেছে জালার (বীজতলা)।  আমাদের লোকসান হবে। নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করতে অনেক টাকা খরচ হবে। এ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

এদিকে ভোলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, এ মাসের শুরু থেকে গত আটদিনে জেলায় ৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতেই উপকূলের নিচু এলাকা ডুবে যায়।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আপাতত বৃষ্টি না হলেও আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কৃষকদের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে সব বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাসান  ওয়ারিসুল কবীর বলেন, শতভাগ বীজতলায় পানি জমেছে, ক্ষতির বিষয়টি তবে এখনই বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিয়েছি কৃষকদের।

এ বছর জেলায় এক লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।