ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

রাজশাহীতে শব্দ দূষণের মূল কারণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটো ও অটো রিকশা

রায়হান রনি, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪ ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে রাজশাহীর সুনাম থাকলেও দিনে দিনে এখানকার শব্দদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। নগরায়নের যুগে শব্দ দূষণ রাজশাহীতে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, যা জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের জন্য মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে, ঘুম অনিয়মিত হচ্ছে, রক্ত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, হার্টের ক্ষতি করছে, এমনকি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

UNEP এর ২০২২ সালের এক রিপোর্টে রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ শব্দ দূষণকারী শহর হিসেবে দেখায়। যেখানে রাজশাহীতে শব্দের পরিমান দেখানো হয় ১০৩ ডেসিবেল।

এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শহরের পাঁচটি জনবহুল স্থানে দিনের বেলায় শব্দের মান নির্ণয় করে । এতে সর্বোচ্চ গড় শব্দ পাওয়া যায় নগরীর রেইলগেটে ৯৬.৩০ ডেসিবেল এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৬.১০ ডেসিবেল নগরীর লক্ষিপুর মোড়ে।

তালাইমারী মোড়, বিসিক মঠ পুকুর ও সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় শব্দের মান পাওয়া যায় যথাক্রমে ৮৮.৮০ ডেসিবেল, ৭৬.০০ ডেসিবেল এবং ৯০.৫০ ডেসিবেল।প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শব্দ দূষণের মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রতিকারের বিষয়ে সংস্থাটি অনুসন্ধান করে ।

এতে দেখা যায়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারি চালিত অটো এবং অটো রিকশার উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ যানবাহন অযথা হর্ন বাজাতে থাকে। এগুলো মূলত TT হর্ন ব্যবহার করে।

এইদিকে, নগরীর তালাইমারী ও রেলগেটে এলাকায় বাস গুলোকে অযথা যত্রতত্র হর্ন বাজাতে দেখা যায় । শব্দের মানমাত্রা নির্ণয়ের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইকবাল মতিন উপস্থিতিতে পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান। তাঁকে সহযোগিতা করেন পিএইচডি গবেষক অলি আহমেদ, শেখ ফয়সাল আহমেদসহ প্রমুখ।

ড. জাকির হোসেন খান বলেন, ‘শহরের এই শব্দদূষণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। রিকশা-অটোরিকশার উচ্চমাত্রার হর্ন, যানজটের মধ্যে বাস-ট্রাকের অযথা হর্ন বাজানোসহ ক্রমাগত বড় বড় গাছ কেটে ফেলা এর জন্য দায়ী।’ পরিবেশ সহনীয় করতে অটোরিকশায় উচ্চমাত্রার হর্নের পরিবর্তে ভেঁপু হর্ন লাগানো এবং প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন এই গবেষক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে শব্দ দূষণের মূল কারণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটো ও অটো রিকশা

আপডেট সময় : ১১:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪

পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে রাজশাহীর সুনাম থাকলেও দিনে দিনে এখানকার শব্দদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। নগরায়নের যুগে শব্দ দূষণ রাজশাহীতে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, যা জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের জন্য মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে, ঘুম অনিয়মিত হচ্ছে, রক্ত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, হার্টের ক্ষতি করছে, এমনকি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

UNEP এর ২০২২ সালের এক রিপোর্টে রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ শব্দ দূষণকারী শহর হিসেবে দেখায়। যেখানে রাজশাহীতে শব্দের পরিমান দেখানো হয় ১০৩ ডেসিবেল।

এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শহরের পাঁচটি জনবহুল স্থানে দিনের বেলায় শব্দের মান নির্ণয় করে । এতে সর্বোচ্চ গড় শব্দ পাওয়া যায় নগরীর রেইলগেটে ৯৬.৩০ ডেসিবেল এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৬.১০ ডেসিবেল নগরীর লক্ষিপুর মোড়ে।

তালাইমারী মোড়, বিসিক মঠ পুকুর ও সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় শব্দের মান পাওয়া যায় যথাক্রমে ৮৮.৮০ ডেসিবেল, ৭৬.০০ ডেসিবেল এবং ৯০.৫০ ডেসিবেল।প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শব্দ দূষণের মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রতিকারের বিষয়ে সংস্থাটি অনুসন্ধান করে ।

এতে দেখা যায়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারি চালিত অটো এবং অটো রিকশার উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ যানবাহন অযথা হর্ন বাজাতে থাকে। এগুলো মূলত TT হর্ন ব্যবহার করে।

এইদিকে, নগরীর তালাইমারী ও রেলগেটে এলাকায় বাস গুলোকে অযথা যত্রতত্র হর্ন বাজাতে দেখা যায় । শব্দের মানমাত্রা নির্ণয়ের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইকবাল মতিন উপস্থিতিতে পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান। তাঁকে সহযোগিতা করেন পিএইচডি গবেষক অলি আহমেদ, শেখ ফয়সাল আহমেদসহ প্রমুখ।

ড. জাকির হোসেন খান বলেন, ‘শহরের এই শব্দদূষণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। রিকশা-অটোরিকশার উচ্চমাত্রার হর্ন, যানজটের মধ্যে বাস-ট্রাকের অযথা হর্ন বাজানোসহ ক্রমাগত বড় বড় গাছ কেটে ফেলা এর জন্য দায়ী।’ পরিবেশ সহনীয় করতে অটোরিকশায় উচ্চমাত্রার হর্নের পরিবর্তে ভেঁপু হর্ন লাগানো এবং প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন এই গবেষক।