ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

পাবনায় মুকুলে ভরে গেছে লিচু গাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

তুহিন হোসেন
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮০’র দশক থেকে বানিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়ে থাকে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু।

পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে মোট লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন অত্রাঞ্চলের চাষীরা।

লিচু চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যে গাছে মুকুল আসে না সে গাছ গুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। আর যে গাছে মুকুল আসে সে গাছে মুকুলে ছেয়ে যায়।

জানা যায়, ঈশ্বরদীতে মূলত ৩ জাতের লিচুর চাষ হয় সবচেয়ে বেশী। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।

উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তার পুর, কদিম পাড়া, মানিক নগর, ছিলিমপুর এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসেনি এমন গাছের সংখ্যা সামান্য। যা শতকরা ২০/ থেকে ২৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন লিচু চাষীরা।

নওদাপাড়া এলাকার লিচু চাষী ইয়াসিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার ১৩০-১৪৫টি লিচুর গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।

মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন বলেন, গেল বছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।

কোলাকান্দি জয়নগরের জাহিদ হাসান বলেন,প্রতিবছর ৭/৮ লক্ষ টাকার লিচু গাছ বিক্রি করে থাকি।এবছর যেভাবে মুকুল এসেছে আশা করছি অনেক বেশি টাকা বিক্রি করতে পারবো।

জগন্নাথপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এবছর পাবনায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিছু উৎপাদিত হয়েছে।আলহামদুলিল্লা গত বছরের তুলনায় মুকুল অনেক বেশি এসেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনায় মুকুলে ভরে গেছে লিচু গাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০২:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮০’র দশক থেকে বানিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়ে থাকে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু।

পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে মোট লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন অত্রাঞ্চলের চাষীরা।

লিচু চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যে গাছে মুকুল আসে না সে গাছ গুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। আর যে গাছে মুকুল আসে সে গাছে মুকুলে ছেয়ে যায়।

জানা যায়, ঈশ্বরদীতে মূলত ৩ জাতের লিচুর চাষ হয় সবচেয়ে বেশী। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।

উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তার পুর, কদিম পাড়া, মানিক নগর, ছিলিমপুর এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসেনি এমন গাছের সংখ্যা সামান্য। যা শতকরা ২০/ থেকে ২৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন লিচু চাষীরা।

নওদাপাড়া এলাকার লিচু চাষী ইয়াসিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার ১৩০-১৪৫টি লিচুর গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।

মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন বলেন, গেল বছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।

কোলাকান্দি জয়নগরের জাহিদ হাসান বলেন,প্রতিবছর ৭/৮ লক্ষ টাকার লিচু গাছ বিক্রি করে থাকি।এবছর যেভাবে মুকুল এসেছে আশা করছি অনেক বেশি টাকা বিক্রি করতে পারবো।

জগন্নাথপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এবছর পাবনায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিছু উৎপাদিত হয়েছে।আলহামদুলিল্লা গত বছরের তুলনায় মুকুল অনেক বেশি এসেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।