ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

শিক্ষার্থীদের অনুদানের টাকা শিক্ষকের পকেটে।

সুমন মিয়া: জলঢাকা(উপজেলা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪ ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর জলঢাকার বগুলাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মোছা. মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে
উপজেলার ১০ টি বিদ্যালয়ে পারফরম্যান্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনষ্টিটিউশনের (পিবিজিএসআই) প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। কোন কোন স্কুল এ অনুদান পাবে, তা নির্ধারণ করে দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এর মধ্যে উপজেলার বগুলাগাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীর নামে ৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যা সম্পুর্ন প্রধান শিক্ষকের পকেটে চলে গেছে।

যানাগেছে, বরাদ্দের এ টাকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ২০ জন অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাছাই করেন এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোনের বিকাশ অথবা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা মিলে হতদরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীদের একাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করলে শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকা দেয়ার পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে এক হাজার টাকার করে দিবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জানান, ৫ হাজার টাকার মধ্যে তিনি একটি টাকাও পাননি। এমনকি তার মোবাইল নম্বরের যায়গায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের একজন শিক্ষকের নম্বর দেয়া আছে। অনুদানের টাকা সেই একাউন্টের জমা হয়েছে।

৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,প্রধান শিক্ষকের কথামতো মোবাইল নিয়ে আমার ছেলে স্কুলে যায় শিক্ষকেরা জোরকরে পিন নম্বর নিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে টাকা বাহির করে এসএমএস ডিলেট করে দেয়।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, অভিযোগ পেয়েছিলাম এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে কথাও বলেছি পরে কি হলো আমার জানা নাই। বিষয়টি খদিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জি আর সারোয়ার বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষার্থীদের অনুদানের টাকা শিক্ষকের পকেটে।

আপডেট সময় : ১২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪

নীলফামারীর জলঢাকার বগুলাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মোছা. মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে
উপজেলার ১০ টি বিদ্যালয়ে পারফরম্যান্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনষ্টিটিউশনের (পিবিজিএসআই) প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। কোন কোন স্কুল এ অনুদান পাবে, তা নির্ধারণ করে দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এর মধ্যে উপজেলার বগুলাগাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীর নামে ৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যা সম্পুর্ন প্রধান শিক্ষকের পকেটে চলে গেছে।

যানাগেছে, বরাদ্দের এ টাকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ২০ জন অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাছাই করেন এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোনের বিকাশ অথবা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা মিলে হতদরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীদের একাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করলে শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকা দেয়ার পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে এক হাজার টাকার করে দিবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জানান, ৫ হাজার টাকার মধ্যে তিনি একটি টাকাও পাননি। এমনকি তার মোবাইল নম্বরের যায়গায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের একজন শিক্ষকের নম্বর দেয়া আছে। অনুদানের টাকা সেই একাউন্টের জমা হয়েছে।

৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,প্রধান শিক্ষকের কথামতো মোবাইল নিয়ে আমার ছেলে স্কুলে যায় শিক্ষকেরা জোরকরে পিন নম্বর নিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে টাকা বাহির করে এসএমএস ডিলেট করে দেয়।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, অভিযোগ পেয়েছিলাম এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে কথাও বলেছি পরে কি হলো আমার জানা নাই। বিষয়টি খদিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জি আর সারোয়ার বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।