ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি? নবগঠিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে সমমনা সংগঠনগুলোর অভিনন্দন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ সাংবাদিক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হলেন নাগরিক টেলিভিশনের রুবেল মজুমদার ছবির ফ্রেমে ধরে রাখা জীবনের গল্প-আম্বিয়া বেগম অন্তরা চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন. ড. মো. আখতার হোসেন সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়

হিজাব না পরা নারীদের শনাক্তে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ক্যামেরা বসাচ্ছে ইরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ না পরা নারীদের শনাক্ত করতে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ক্যামেরা বসাচ্ছে ইরান। ইরানি পুলিশের দাবি, যথাযথ পোশাক না পরা নারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় লাগাম টেনে ধরার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। গত শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানি পুলিশ বলেছে, হিজাববিহীন নারীদের শনাক্ত করার পরে এর ‘পরিণাম সম্পর্কে সতর্কতামূলক বার্তা’ দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ‘হিজাব আইনবিরোধী প্রতিরোধ মোকাবিলা করা’। -এফএনএস
এ ধরনের প্রতিরোধ দেশের আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করে এবং নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। পুলিশ বলেছে, হিজাব আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আচরণ এবং পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর থেকে বাধ্যতামূলক হিজাব আইন শিথিলকরণ নিয়ে ইরানে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। হিজাব আইন লঙ্ঘন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরে আরোপিত আইন অনুসারে, ইরানে নারীদের চুল ঢেকে রাখা এবং শরীর ঢাকতে লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। এই আইন লঙ্ঘনকারীরা জনসম্মুখে তিরস্কার, জরিমানা বা গ্রেপ্তারির মুখোমুখি হতে পারেন। পর্দাকে ইরানি সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি এবং ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একটি বাস্তব নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করে গত ৩০ মার্চ ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে গত সেপ্টেম্বরে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে বহু ইরানি নারী হিজাব ছাড়াই বাইরে বেরিয়ে আসছেন। নারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাহসাকে আটক করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর জেরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে চলা এ বিক্ষোভ দমনে বিরোধীদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী। এরপরও এখনো গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি অমান্য করে, অর্থাৎ হিজাব ছাড়াই বিভিন্ন শপিংমল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও রাস্তাঘাটে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে বহু নারীকে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও খোলা চুলের ভিডিও আপলোড করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু হিজাববিরোধীদের মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার, আর তাতে সমর্থন দিচ্ছে কট্টরপন্থিরা। গত সপ্তাহে হিজাব না পরায় দুই নারীর মাথায় এক ব্যক্তি দই ঢেলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হিজাব না পরা নারীদের শনাক্তে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ক্যামেরা বসাচ্ছে ইরান

আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩

মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ না পরা নারীদের শনাক্ত করতে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ক্যামেরা বসাচ্ছে ইরান। ইরানি পুলিশের দাবি, যথাযথ পোশাক না পরা নারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় লাগাম টেনে ধরার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। গত শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানি পুলিশ বলেছে, হিজাববিহীন নারীদের শনাক্ত করার পরে এর ‘পরিণাম সম্পর্কে সতর্কতামূলক বার্তা’ দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ‘হিজাব আইনবিরোধী প্রতিরোধ মোকাবিলা করা’। -এফএনএস
এ ধরনের প্রতিরোধ দেশের আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করে এবং নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। পুলিশ বলেছে, হিজাব আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আচরণ এবং পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর থেকে বাধ্যতামূলক হিজাব আইন শিথিলকরণ নিয়ে ইরানে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। হিজাব আইন লঙ্ঘন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরে আরোপিত আইন অনুসারে, ইরানে নারীদের চুল ঢেকে রাখা এবং শরীর ঢাকতে লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। এই আইন লঙ্ঘনকারীরা জনসম্মুখে তিরস্কার, জরিমানা বা গ্রেপ্তারির মুখোমুখি হতে পারেন। পর্দাকে ইরানি সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি এবং ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একটি বাস্তব নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করে গত ৩০ মার্চ ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে গত সেপ্টেম্বরে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে বহু ইরানি নারী হিজাব ছাড়াই বাইরে বেরিয়ে আসছেন। নারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাহসাকে আটক করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর জেরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে চলা এ বিক্ষোভ দমনে বিরোধীদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী। এরপরও এখনো গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি অমান্য করে, অর্থাৎ হিজাব ছাড়াই বিভিন্ন শপিংমল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও রাস্তাঘাটে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে বহু নারীকে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও খোলা চুলের ভিডিও আপলোড করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু হিজাববিরোধীদের মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার, আর তাতে সমর্থন দিচ্ছে কট্টরপন্থিরা। গত সপ্তাহে হিজাব না পরায় দুই নারীর মাথায় এক ব্যক্তি দই ঢেলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।