ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কুড়িগ্রামে কোল্ড স্টোরেজের কার্যক্রম বন্ধ, সংকটে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম জেলার ছয়টি কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার)-এর কার্যক্রম গত ১৪ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত আলু সংরক্ষণ ভাড়া কার্যকর করা এবং কেজিপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা পুনর্নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে আলু চাষি, ব্যবসায়ী এবং কোল্ড স্টোরেজ মালিক—সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলার আলু চাষি ও আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে জানান, সরকার সারা দেশে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে তারা কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এদিকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা বলছেন, বর্তমান পরিচালন ব্যয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

মুস্তফা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মোস্তফা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সরকার চাইলে ভর্তুকি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাবর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান কবির রাজীদ বলেন, “বাংলাদেশে বাস করলে বাংলাদেশের আইন মানতেই হবে। আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। এই অচলাবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সেকেন্দার কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক সেকেন্দার বলেন, “১৪ জুন থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?”

হক কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।”

স্বনির্ভর আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি দুলাল বেপারী আশা প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আলু উৎপাদনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে কোল্ড স্টোরেজের কার্যক্রম বন্ধ, সংকটে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলার ছয়টি কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার)-এর কার্যক্রম গত ১৪ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত আলু সংরক্ষণ ভাড়া কার্যকর করা এবং কেজিপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা পুনর্নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে আলু চাষি, ব্যবসায়ী এবং কোল্ড স্টোরেজ মালিক—সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলার আলু চাষি ও আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে জানান, সরকার সারা দেশে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে তারা কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এদিকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা বলছেন, বর্তমান পরিচালন ব্যয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

মুস্তফা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মোস্তফা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সরকার চাইলে ভর্তুকি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাবর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান কবির রাজীদ বলেন, “বাংলাদেশে বাস করলে বাংলাদেশের আইন মানতেই হবে। আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। এই অচলাবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সেকেন্দার কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক সেকেন্দার বলেন, “১৪ জুন থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?”

হক কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।”

স্বনির্ভর আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি দুলাল বেপারী আশা প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আলু উৎপাদনের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।