ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

তজুমদ্দিনে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকা-অভিভাবক সংঘর্ষ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বিরোধের জেরে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর উভয় পক্ষ তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শম্ভুপুর খাসেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি প্রত্যয়নপত্রে সংশোধন ও স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া থাকার পরও পুনরায় স্বাক্ষরের দাবি জানিয়ে আহসানুল হক মমিন উত্তেজিত আচরণ করেন। এ সময় তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে লাইব্রেরিতে থাকা ছাতা ও চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

অন্যদিকে আহসানুল হক মমিনের দাবি, বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে কিছু ভুল থাকায় তিনি তা সংশোধনের অনুরোধ করেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টারের পরামর্শে খাসেরহাট বাজারে দেখা করতে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মমিন ছাতা ও চেয়ার নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জের ধরে পরে দক্ষিণ খাসেরহাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হন।

তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তজুমদ্দিনে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকা-অভিভাবক সংঘর্ষ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বিরোধের জেরে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর উভয় পক্ষ তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শম্ভুপুর খাসেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি প্রত্যয়নপত্রে সংশোধন ও স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া থাকার পরও পুনরায় স্বাক্ষরের দাবি জানিয়ে আহসানুল হক মমিন উত্তেজিত আচরণ করেন। এ সময় তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে লাইব্রেরিতে থাকা ছাতা ও চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

অন্যদিকে আহসানুল হক মমিনের দাবি, বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে কিছু ভুল থাকায় তিনি তা সংশোধনের অনুরোধ করেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টারের পরামর্শে খাসেরহাট বাজারে দেখা করতে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মমিন ছাতা ও চেয়ার নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জের ধরে পরে দক্ষিণ খাসেরহাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হন।

তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।