ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলেছে। সদ্য দাফন করা একটি কবর ঘিরে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন নিহতের ছেলে, ভাই-ভাতিজাসহ স্বজন ও গ্রামবাসী। কবরের চারপাশে জ্বালানো হয়েছে আলো, হাতে রয়েছে লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি বজ্রপাতে নিহত হন এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এলেও দাফনের পর নতুন করে দেখা দিয়েছে লাশ চুরির আতঙ্ক। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ চুরি করে অসাধু চক্র মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে থাকে। এমন আশঙ্কা থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, অতীতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ ওঠায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তাই রাতভর পালাক্রমে কবরস্থানে অবস্থান করে পাহারা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত কবরের ক্ষতি করতে না পারে।

স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু বদলগাছীর এনায়েতপুর গ্রামের ঘটনা নয়; নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে অনেক এলাকাতেই একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। বিগত কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আতঙ্ক ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার পর অনেক পরিবারই কবর পাহারার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যদি সত্যিই লাশ চুরি বা এ ধরনের অপরাধচক্র সক্রিয় থাকে, তবে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কবরস্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলেছে। সদ্য দাফন করা একটি কবর ঘিরে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন নিহতের ছেলে, ভাই-ভাতিজাসহ স্বজন ও গ্রামবাসী। কবরের চারপাশে জ্বালানো হয়েছে আলো, হাতে রয়েছে লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি বজ্রপাতে নিহত হন এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এলেও দাফনের পর নতুন করে দেখা দিয়েছে লাশ চুরির আতঙ্ক। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ চুরি করে অসাধু চক্র মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে থাকে। এমন আশঙ্কা থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, অতীতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ ওঠায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তাই রাতভর পালাক্রমে কবরস্থানে অবস্থান করে পাহারা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত কবরের ক্ষতি করতে না পারে।

স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু বদলগাছীর এনায়েতপুর গ্রামের ঘটনা নয়; নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে অনেক এলাকাতেই একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। বিগত কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আতঙ্ক ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার পর অনেক পরিবারই কবর পাহারার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যদি সত্যিই লাশ চুরি বা এ ধরনের অপরাধচক্র সক্রিয় থাকে, তবে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কবরস্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।