পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় র্যাবের সহযোগিতায় আন্তজেলা গরু চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান: ৬ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫টি চোরাই গরু
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর সহযোগিতায় আন্তজেলা গরু চোর চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। পৃথক অভিযানে এখন পর্যন্ত কুখ্যাত ৬ জন আন্তজেলা গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি চোরাই গরু।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে ঘটনাগুলোর পর্যালোচনা করা হয় এবং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কয়েকটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
অভিযানের প্রথম ধাপে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজন আন্তজেলা গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব বগুড়ার সহযোগিতায় বগুড়া থেকে কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিব এবং রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাব বগুড়ার একটি টিমও অভিযানে অংশ নেয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও পরিচালিত ওই অভিযানে নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাত শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং শ্রী সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৫টি চোরাই গরু।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে নাটোরের সিংড়া এলাকায় এনে কিছুদিন লালন-পালনের পর বিক্রি করত। স্থানীয়ভাবে তারা গরুর ব্যবসায়ী পরিচয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযানে এ পর্যন্ত আন্তজেলা গরু চোর ও ডাকাত চক্রের মোট ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরু কৃষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কৃষকের এই সম্পদ রক্ষায় গরু চোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”











