বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের সব উৎস বৈধ, তদন্ত হলে পূর্ণ সহযোগিতা করব”— দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এরশাদুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তার বেতন, সম্পদ এবং বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হলেও সেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, তুলনামূলক কম বেতনের সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি কুড়িগ্রাম শহরে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং একটি ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হয়েছেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে এরশাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের বড় একটি অংশ যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি, পোস্টে উল্লেখিত বেতনের তথ্যও সঠিক নয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে তার মাসিক বেতন প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ যাচাই ছাড়াই ১৯ হাজার টাকার বেতন উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে এরশাদুল হকের দাবি, পুরো অর্থই বৈধ উৎস থেকে এসেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে গৃহঋণ, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ, নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রির অর্থ এবং অন্যান্য বৈধ উৎসের সমন্বয়ে নির্মাণ ব্যয় বহন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা উপস্থাপন করা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, কোনো সরকারি সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশন যদি তার সম্পদ বা আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত করে, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরশাদুল হক আরও দাবি করেন, তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করলে তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অভিযোগ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, নির্ভরযোগ্য নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রতিও তিনি অনুরোধ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে গ্রহণ না করতে।
তিনি আরও জানান, প্রচারিত তথ্যের কারণে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান।
























