ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

রাজশাহী খোলাবোনা ফুরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি

আবু কাওসার মাখন রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসা ও খোলাবোনা ফুরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার জমি, অর্থ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ দাবিতে আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে

স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেন প্রতিবাদকারীরা।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় জাহিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম ও কাজিম উদ্দিনসহ খোলাবোনা গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দাতা পরিবারের সদস্য, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হরিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৩৮ বছর ধরে খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন, কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

দাতা পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা প্রতিষ্ঠান দুটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন। তবে ওই সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা, দখল, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে এলাকাবাসীকে কোনো স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া কিছু জমি বিক্রি ও বিনিময়ের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করেননি।
হরিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বারশেদ আলী বলেন, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন বলেন, “এলাকাবাসীর দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হবে।”

এদিকে, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা— স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী খোলাবোনা ফুরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসা ও খোলাবোনা ফুরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার জমি, অর্থ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ দাবিতে আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে

স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেন প্রতিবাদকারীরা।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় জাহিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম ও কাজিম উদ্দিনসহ খোলাবোনা গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দাতা পরিবারের সদস্য, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হরিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৩৮ বছর ধরে খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন, কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

দাতা পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা প্রতিষ্ঠান দুটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন। তবে ওই সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা, দখল, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে এলাকাবাসীকে কোনো স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া কিছু জমি বিক্রি ও বিনিময়ের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করেননি।
হরিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বারশেদ আলী বলেন, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন বলেন, “এলাকাবাসীর দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হবে।”

এদিকে, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা— স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।