ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে কিশোরগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মো:এনামুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সোমবার (২৯ জুন) শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে একটি র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উক্ত আয়োজনটি সম্পন্ন হয়, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক প্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা অংশ নেন।

এ দিনটির জন্য সকালে জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রঙ্গণ থেকে একটি উজ্জ্বল র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদিক্ষণ করে। এর পর জেলা প্রশাসকের অফিসের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

বক্তারা সভায় জানান, শিশু শ্রম একটি সামাজিক সমস্যা, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। শিশুর হাতে বই, খাতা ও খেলনা থাকার পরিবর্তে এখন অনেক শিশুকে জীবনধারণের তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার, প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন এবং সমাজের সকল শ্রেণির লোকেদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “শিশুশ্রম কেবল শিশুদের কোমল হাতে আঘাত নয়, বরং এটি তাদের স্বপ্নের বাগানে কুঠার চালায়। এটি শুধুমাত্র শ্রম নয়, বরং একটি শিশুর রঙবাহারি শৈশবের হরণও।” তিনি শিশু শ্রম নিরসনে সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধের জন্য ব্যাপক জনগণের সচেতনতা তৈরী, শ্রম থেকে মুক্ত হওয়া শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য স্ব-সহায়ক ঋণ ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবেই শিশুদের শ্রমের পরিবর্তে শিক্ষা ও একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে কীভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং শোভন পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি সকল শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজুর রহমান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কলকারখানার শ্রমিক প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিরা।

এই দিবস উপলক্ষে আয়োজনের মাধ্যমে শিশু শ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপদ ও আনন্দময় শৈশব ফিরিয়ে দিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে কিশোরগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ০৬:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সোমবার (২৯ জুন) শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে একটি র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উক্ত আয়োজনটি সম্পন্ন হয়, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক প্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা অংশ নেন।

এ দিনটির জন্য সকালে জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রঙ্গণ থেকে একটি উজ্জ্বল র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদিক্ষণ করে। এর পর জেলা প্রশাসকের অফিসের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

বক্তারা সভায় জানান, শিশু শ্রম একটি সামাজিক সমস্যা, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। শিশুর হাতে বই, খাতা ও খেলনা থাকার পরিবর্তে এখন অনেক শিশুকে জীবনধারণের তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার, প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন এবং সমাজের সকল শ্রেণির লোকেদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “শিশুশ্রম কেবল শিশুদের কোমল হাতে আঘাত নয়, বরং এটি তাদের স্বপ্নের বাগানে কুঠার চালায়। এটি শুধুমাত্র শ্রম নয়, বরং একটি শিশুর রঙবাহারি শৈশবের হরণও।” তিনি শিশু শ্রম নিরসনে সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধের জন্য ব্যাপক জনগণের সচেতনতা তৈরী, শ্রম থেকে মুক্ত হওয়া শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য স্ব-সহায়ক ঋণ ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবেই শিশুদের শ্রমের পরিবর্তে শিক্ষা ও একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে কীভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং শোভন পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি সকল শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজুর রহমান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কলকারখানার শ্রমিক প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিরা।

এই দিবস উপলক্ষে আয়োজনের মাধ্যমে শিশু শ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপদ ও আনন্দময় শৈশব ফিরিয়ে দিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি