ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

​সারিয়াকান্দিতে যমুনা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের বড় অভিযান: ৪ ড্রেজার ও পাইপলাইন ধ্বংস, আতঙ্কে বালুদস্যুরা

নাজমুল হাসান নাজির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

০১ জুলাই ২০২৬ খ্রি. (বুধবার) উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের চায়না বাঁধ এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ৪টি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন এবং কয়েক হাজার ফুট বালু সরবরাহের প্লাস্টিক ও লোহার পাইপলাইন ক্রেন ও হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর এই অংশটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদী ভাঙন ঠেকাতে যেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে এক শ্রেণির প্রভাবশালী বালুদস্যু চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলার কারণে মূল বাঁধটি ধসে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল হঠাৎ করেই কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের চায়না বাঁধ এলাকায় হাজির হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার চালক ও বালু কাটার সাথে জড়িত শ্রমিকরা নৌকাযোগে নদীর ওপারে পালিয়ে যায়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৪টি বড় আকারের ড্রেজার মেশিন জব্দ করে এবং স্পটেই সেগুলো ভেঙে ও আগুন ধরিয়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে। একই সাথে বালু পরিবহনের দীর্ঘ পাইপলাইন কেটে অকেজো করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান: “ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে ছিলাম। আজকের এই কঠোর অভিযানে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে এই অভিযান যেন মাঝেমধ্যেই চালানো হয়।”
​
​অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সরকারি সম্পদকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বরদাশত করা হবে না।

​তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ​”যারা এই চক্রের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পরিবেশ ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসন বগুড়ার পক্ষ থেকে এই ধরণের কঠোর ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

​অভিযানের পর থেকে পুরো এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজার মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনস্বার্থে এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সারিয়াকান্দির সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

​সারিয়াকান্দিতে যমুনা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের বড় অভিযান: ৪ ড্রেজার ও পাইপলাইন ধ্বংস, আতঙ্কে বালুদস্যুরা

আপডেট সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

০১ জুলাই ২০২৬ খ্রি. (বুধবার) উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের চায়না বাঁধ এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ৪টি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন এবং কয়েক হাজার ফুট বালু সরবরাহের প্লাস্টিক ও লোহার পাইপলাইন ক্রেন ও হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর এই অংশটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদী ভাঙন ঠেকাতে যেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে এক শ্রেণির প্রভাবশালী বালুদস্যু চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলার কারণে মূল বাঁধটি ধসে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল হঠাৎ করেই কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের চায়না বাঁধ এলাকায় হাজির হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার চালক ও বালু কাটার সাথে জড়িত শ্রমিকরা নৌকাযোগে নদীর ওপারে পালিয়ে যায়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৪টি বড় আকারের ড্রেজার মেশিন জব্দ করে এবং স্পটেই সেগুলো ভেঙে ও আগুন ধরিয়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে। একই সাথে বালু পরিবহনের দীর্ঘ পাইপলাইন কেটে অকেজো করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান: “ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে ছিলাম। আজকের এই কঠোর অভিযানে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে এই অভিযান যেন মাঝেমধ্যেই চালানো হয়।”
​
​অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সরকারি সম্পদকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বরদাশত করা হবে না।

​তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ​”যারা এই চক্রের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পরিবেশ ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসন বগুড়ার পক্ষ থেকে এই ধরণের কঠোর ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

​অভিযানের পর থেকে পুরো এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজার মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনস্বার্থে এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সারিয়াকান্দির সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।