ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

স্টেশনে টিকিটের মরীচিকা, সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি সাধারণ যাত্রী

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে ২৮টি ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট সংকট।

যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন বরাদ্দের অপ্রতুলতা এবং শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, চড়া দামে টিকিট কিনেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন যে ২৮টি ট্রেন চলাচল করে, তাতে যাত্রী চাহিদার বিপরীতে আসন বরাদ্দ মাত্র ১,১৫০টি। এর মধ্যে ঢাকার জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫৫০টি। এই সীমিত টিকিটের ওপর নজর পড়ে একটি প্রভাবশালী কালোবাজারি চক্রের।

অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট উধাও হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক রহস্য।

​ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টেশন কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিট না মিললেও কালোবাজারিদের কাছে তা সহজেই পাওয়া যায়। তবে এর জন্য গুনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা। এখানেই শেষ নয়, একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে বিক্রি করার ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ট্রেনে উঠে সিট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

​এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য কালোবাজারির কাছ থেকে দুটি টিকিট কিনেছিলাম। ট্রেনে উঠে দেখি একই সিটের বিপরীতে আরও যাত্রী রয়েছেন। এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।’

রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যাত্রীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘রেলের নিয়ম অনুযায়ী, যার আইডি কার্ড তারই টিকিট ব্যবহারের কথা। অন্য কারও আইডি দিয়ে কাটা টিকিট কেনা অবৈধ।

আমরা নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি, কিন্তু যাত্রীরা অনেক সময় নিয়ম মানছেন না।’
​তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন সুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. শাহ আলমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর স্টেশনের ভেতরে টিকিট কালোবাজারি শতভাগ বন্ধ করেছি।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের ভেতরে কালোবাজারিদের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

​স্টেশনের বাইরের অলিগলিতে কালোবাজারিদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্টেশনের বাইরে টিকিট বেচাকেনার বিষয়ে স্থানীয়দের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

​প্রতিকারহীন ভোগান্তি
প্রশাসন কালোবাজারি নির্মূলের দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্টেশনের বাইরে বা আশপাশের অলিগলিতে চলছে জমজমাট টিকিট বাণিজ্য। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়সারা বক্তব্য সমস্যার সমাধান নয়। টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

​ভোর থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা এখন শুধু একটিই দাবি জানান— টিকিট কালোবাজারিমুক্ত হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, হয়রানি বন্ধ হোক সাধারণ মানুষের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্টেশনে টিকিটের মরীচিকা, সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি সাধারণ যাত্রী

আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে ২৮টি ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট সংকট।

যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন বরাদ্দের অপ্রতুলতা এবং শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, চড়া দামে টিকিট কিনেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন যে ২৮টি ট্রেন চলাচল করে, তাতে যাত্রী চাহিদার বিপরীতে আসন বরাদ্দ মাত্র ১,১৫০টি। এর মধ্যে ঢাকার জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫৫০টি। এই সীমিত টিকিটের ওপর নজর পড়ে একটি প্রভাবশালী কালোবাজারি চক্রের।

অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট উধাও হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক রহস্য।

​ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টেশন কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিট না মিললেও কালোবাজারিদের কাছে তা সহজেই পাওয়া যায়। তবে এর জন্য গুনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা। এখানেই শেষ নয়, একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে বিক্রি করার ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ট্রেনে উঠে সিট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

​এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য কালোবাজারির কাছ থেকে দুটি টিকিট কিনেছিলাম। ট্রেনে উঠে দেখি একই সিটের বিপরীতে আরও যাত্রী রয়েছেন। এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।’

রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যাত্রীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘রেলের নিয়ম অনুযায়ী, যার আইডি কার্ড তারই টিকিট ব্যবহারের কথা। অন্য কারও আইডি দিয়ে কাটা টিকিট কেনা অবৈধ।

আমরা নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি, কিন্তু যাত্রীরা অনেক সময় নিয়ম মানছেন না।’
​তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন সুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. শাহ আলমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর স্টেশনের ভেতরে টিকিট কালোবাজারি শতভাগ বন্ধ করেছি।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের ভেতরে কালোবাজারিদের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

​স্টেশনের বাইরের অলিগলিতে কালোবাজারিদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্টেশনের বাইরে টিকিট বেচাকেনার বিষয়ে স্থানীয়দের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

​প্রতিকারহীন ভোগান্তি
প্রশাসন কালোবাজারি নির্মূলের দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্টেশনের বাইরে বা আশপাশের অলিগলিতে চলছে জমজমাট টিকিট বাণিজ্য। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়সারা বক্তব্য সমস্যার সমাধান নয়। টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

​ভোর থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা এখন শুধু একটিই দাবি জানান— টিকিট কালোবাজারিমুক্ত হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, হয়রানি বন্ধ হোক সাধারণ মানুষের।